kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিক্রমপুর ফুড প্রডাক্টস

শ্রীনগরে নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মানহীন খাদ্যসামগ্রী

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শ্রীনগরে নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মানহীন খাদ্যসামগ্রী

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁওয়ে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ও ভোজ্য তেল তৈরি করছে বিক্রমপুর ফুড প্রডাক্টস। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ও ভোজ্য তেল তৈরি করছে বিক্রমপুর ফুড প্রডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় অবস্থিত।

শ্রীনগর-ভাগ্যকুল-দোহার সড়কের কামারগাঁও থেকে কয়েক শ গজ উত্তরে ঘোষ বাড়ির পাশে নির্মিত টিনশেড ভবনে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিক্রমপুর ফুড প্রডাক্টস অবস্থিত। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অপরিষ্কার ও নোংরা অবস্থায় হাতের স্পর্শে তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের খাদ্যসামগ্রী। কারখানার মেঝেতে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে খাবার তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। মানা হচ্ছে না নিরাপদ খাদ্য আইনের কোনো নীতিমালা। ব্যবহার করা হচ্ছে পোড়া তেল ও অনিরাপদ পানি। খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য নেই তাপ নিয়ন্ত্রিত কোনো স্টোর রুম। সেখানে সয়াবিন তেলসহ পটেটো চিপস, রিং চিপস, ঝাল চানাচুর, ডাল ভাজা, কুড়মুড়ে টেস্টি স্পাইসি চিপসসহ নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী আকর্ষণীয় মোড়কে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। কর্মচারীদের অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পোশাক পরে কাজ করতেও দেখা গেছে। চিপস তৈরি করে রাখা হয়েছে ময়লা স্থানে। এ সময় পলাশ নামের এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে জানান, প্রতিষ্ঠানের মালিক স্বপন ঘোষ ও ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) গোলাম রাব্বানী ঢাকায় রয়েছেন। মুঠোফোনে ব্যবস্থাপক গোলাম রাব্বানীর কাছে প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকায় মিটিংয়ে রয়েছেন বলে লাইনটি কেটে দেন। 

কিছুক্ষণ পর প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার স্বপন ঘোষ মুঠোফোনে কল করে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি দেখার আপনারা কে?’ এ সময় তিনি দম্ভ করে বলেন, ‘ঢাকায় আমার আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁদের কারখানায় তৈরি করা যাবতীয় ভেজাল ও মানহীন পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়। অধিক লাভের আশায় দোকানিরাও কিনে নেয় এসব মানহীন খাদ্যসামগ্রী।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিশুদের খাদ্যসামগ্রীতে কোনো প্রকার অনিয়ম থাকলে কারখানাটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা