kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ময়লার স্তূপ

দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জনজীবন

আসাদুজ্জামান নূর, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জনজীবন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে মার্কেটের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে মার্কেটের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এ বিষয়ে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তা ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গত রবিবার মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, হাজী আহসান উল্লাহ সুপারমার্কেটের সামনে মহাসড়কের ওপর ময়লা-আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। শিমরাইলের কাঁচামাল ও ফল ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্তূপ করায় মারাত্মক দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও মার্কেটের ক্রেতারা নাক চেপে চলছে। আবর্জনার স্তূপ ফুটপাত ছাড়িয়ে মহাসড়কে এসে পড়ায় পথচারীরা মহাসড়ক দিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ কার্যালয়ের ৫০০ গজ দূরে মহাসড়কে ফেলা হচ্ছে এই আবর্জনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাসড়ক দখল করে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চলতে ও পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়ে পঙ্গু হয়ে গেছে। নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পথচারী তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, যেভবে ময়লা ফেলা হচ্ছে তাতে মহাসড়কের একাংশ দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে পথচারীদের চলাচলে মারত্মক সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মহাসড়ক দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে তাদের। গিয়াসউদ্দীন মডেল কলেজের ছাত্র তাহমিনা আক্তার বলেন, মহাসড়ক দখল করে ফেলা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে পথ চলা যায় না। মুখে রুমাল চেপে দৌড়ে পথ চলতে হয়।

ময়লা ফেলা স্থানের পাশের দোকানদার কামাল মিয়া বলেন, ‘আর ভালো লাগে না। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে যত কষ্টই হোক সংসার চালান লাগব। শুধু আমার না, যারা এ স্থানে ব্যবসা করছে সবার একই অবস্থা। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অনেক নারী রাস্তার ওপরই বমি করে দেয়।’

ফল ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, ‘আমাদের ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকায় রাস্তার ওপর ফেলতে বাধ্য হচ্ছি। ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত স্থান চাই।’

স্থানীয় শিক্ষক ইমাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার ওপর মাসের পর মাস ময়লা ফেলে রাখা হচ্ছে। দেখলে মনে হয় প্রশাসন ও এই দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকাই নেই। সওজ অফিসের কাছেই ময়লা ফেলে স্তূপ করা হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা। ময়লা ফেলার ও অপসারণের ব্যপারে তাদের কোনো ভূমিকাই চোখে পড়ে না। কোমল পরিবহনের বাসচালক মোকশেদ আলী বলেন, ময়লা ফেলে সড়কের একাংশ দখল করে রাখার এই এলাকায় প্রতিদিন কমবেশি যানজট থাকে।

শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিমরাইল এলকায় পাঁচ শতাধিক ফলের দোকান ও ছোট-বড় পাঁচ-সাতটি মার্কেটে কাঁচাবাজার রয়েছে। এই দোকান ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ফেলা হয়। এতে রাস্তায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হয়। এক শ্রেণির লোক এসব দোকান ও কাঁচাবাজার থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ওমর ফারুক বলেন, জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করতে পারে সে জন্য ময়লা অপসারণ করে মানুষ চলাচলের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

হাজী আহসান উল্লাহ সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুল্লাহ হবুল বলেন, মার্কেটের সামনে মহাসড়কে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মোল্যা তাসলিম হোসেন বলেন, মহাসড়কে ময়লা ফেলা হলে যান চলাচলে অসুবিধা হয়। এসব স্থান থেকে কয়েকবার ময়লা অপসারণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলীউল হোসেন বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলছে। শিগগিরই ময়লা অপসারণ করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা