kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজৈরে ৩০০ বছরের পুরনো দুটি মন্দির

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদারীপুরের রাজৈর পৌর এলাকার দীঘিরপাড় গ্রামের ৩০০ বছরের পুরনো দয়াময়ী সর্বজনীন শিবমন্দির ও দুর্গামন্দির সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় শিবমন্দিরটি ধসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দীঘিরপাড় গ্রামের জমিদার তারকেশ্বর রায়চৌধুরীর পূর্বপুরুষরা প্রায় ৩০০ বছর আগে পূজা-অর্চনা ও প্রজাদের মঙ্গলার্থে ১০ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর শিবমন্দির ও দুর্গামন্দির স্থাপন করেন। মন্দির দুটিতে ও এর প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে এখানে ঐতিহ্যবাহী মেলা বসছে কয়েক শ বছর ধরে। এখানে প্রতিবছর শিবপূজা (শিব চতুর্দশী ব্রত), নীলপূজা, দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতো। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে মন্দির এলাকা মুখরিত হয়ে উঠত। এখন আগের অবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আর সংস্কার না হওয়ায় মন্দির দুটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা শিবমন্দিরটি যেকোনো সময়ে ধসে পড়তে পারে। এ জন্য ভয়ে আছে পূজারিরা। টাকার অভাবে মন্দির দুটির সংস্কার না হওয়ায় শিবমন্দিরটির ইট, সুরকি ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। মন্দিরের আশপাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই মন্দিরের সামনের জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে মন্দিরে পূজারিদের পূজা-অর্চনায় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। শিবমন্দিরের গায়ে বিভিন্ন গাছপালা গজানোর ফলে মন্দিরের মধ্যে পানি পড়ে। মন্দিরের সামনের জায়গায় একটি আটচালা টিনশেড দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু মন্দির তহবিলে কোনো অর্থ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোদ-বৃষ্টি হলে পূজারি ও দর্শনার্থীদের পূজা-অর্চনা করতে সমস্যা হয়।

রাজৈর পৌর এলাকার বাসিন্দা শম্ভুনাথ ঘোষ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় দেখেছি দয়াময়ী সর্বজনীন শিব ও দুর্গামন্দিরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে পূজা-অর্চনা হতো। মন্দির দুটির ভগ্নদশা এবং আটচালা না থাকায় অনুষ্ঠানাদিতে ভক্তদের উপস্থিতি তেমন একটা হচ্ছে না। মন্দির দুটির সংস্কারে সরকারের শুভ দৃষ্টি কামনা করছি।’ দীঘিরপাড় এলাকার জীবন কৃষ্ণ মালো বলেন, ‘প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মন্দির দুটি অনতিবিলম্বে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।’

রাজৈর ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দ্বিজপদ মণ্ডল জানান, মন্দির দুটি সংস্কার করে মন্দির এলাকায় প্রাচীর দেওয়া হলে এর পবিত্রতা রক্ষা পাবে এবং পূজারি ও দর্শনার্থীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান রীতিমতো করতে কোনো সমস্যা হবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দয়াময়ী সর্বজনীন শিবমন্দির ও দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, সহসভাপতি শম্ভুনাথ পাণ্ডে ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ জানান, জলাবদ্ধতার কারণে মন্দির দুটির আঙিনা বেশির ভাগ সময়ই স্যাঁতসেঁতে থাকায় পূজারি ও দর্শনার্থীরা ভালোভাবে পূজা-অর্চনা করতে পারছে না। মন্দিরের সামনের জায়গা ভরাট ও আশপাশের জলাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ঐতিহ্যবাহী মন্দির দুটির সংস্কার, মন্দিরের জায়গার চারপাশে প্রাচীর নির্মাণসহ সব সমস্যা দূর করতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি ও রাজৈর পৌরসভার মেয়র শামীম নেওয়াজের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা