kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জলঢাকার আবাসন প্রকল্প

১০০ পরিবারের একটি নলকূপ

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ভূমিহীন পরিবারের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পগুলো প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাত্র একটি নলকূপের (টিউবওয়েল) পানি দিয়ে চলছে ১০০ পরিবার। এ রকম নানা সমস্যায় বাস করছে ভূমিহীন পরিবারগুলো।

উপজেলার ৫ নম্বর ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল আবাসন প্রকল্পে (২০০৩-৪ সালে নির্মিত) গিয়ে দেখা যায়, থাকার অধিকাংশ ঘরের ওপরের টিনগুলো (চালা) নেই। কোনো কোনো পরিবার টিন না থাকায় ওপরে পলিথিন দিয়ে বর্ষায় রাত-দিন কাটাচ্ছে। ১০টি পরিবার মিলে একটি নলকূপ ও দুটি ল্যাট্রিন ব্যবহার করলেও এখন আর তা নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলাটিতে আটটি আশ্রয়ণ বা আবাসন প্রকল্প আছে। সেখানে এক হাজার ৫৪০টি পরিবারের বাস। গুচ্ছগ্রাম বা আদর্শ গ্রাম আছে ৯টি। সেখানে বাস করে ৪৭০টি পরিবার।

গড় ধর্মপাল আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা হানুফা বেগম ও কুলসুম জানান, একদিন বুক ভরা আশা নিয়ে মাথা গোঁজার জন্য ঠাঁই নিতে তাঁরা এখানে এসেছিলেন। এখন তাঁদের অনেকেরই ঘরের ওপর টিন নেই। শোয়ার পরিবেশ নেই। ঘরে ঢুকলে শুধু তারা নয়, গোটা আকাশটাই দেখা যায়। ঘরের টিনগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ায় অনেকেই আগের মতো আর ঘরে বাস করতে পারেন না। কেউ বারান্দায়, কেউবা ঘরের ওপরে পলিথিন দিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। প্রথম দিকে ১০টি পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি নলকূপ ও দুটি টয়লেট ছিল। এখন ১০০ পরিবারের পান, গোসল, কাপড় কাচা ও থালা-বাসন পরিষ্কার করতে একটি নলকূপের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। টয়লেটগুলোও প্রায় নষ্ট। প্রতি মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য একটি স্যাটেলাইট ক্লিনিক করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে তাঁদের খেয়াল-খুশিমতো মাসে এক-দুই দিন আসেন। অসুস্থ শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয় আবাসন বাসিন্দাদের। ক্লিনিকে চিকিৎসক আসেন না। তাই আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের কাঁচা-পাকা পথ মাড়িয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়।

আবাসনের বাসিন্দা হোসনে আরা, সহিরন ও আনোয়ারা বেগম জানান, সরকারিভাবে তাঁরা আবাসনে আশ্রয় পেলেও তাঁদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। পুরুষরা অনেক সময় ক্ষেতে-খামারে বা ঢাকা-কুমিল্লায় শ্রমিকের কাজ করলেও নারীরা বসেই থাকেন। সরকার এখানে হস্তশিল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করলে নারীরা নিজেরসহ পরিবারের ভাগ্য বদলাতে পারতেন।

ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান বলেন, ‘আমি দায়িত্বে আসার পর আবাসনে বসবাসরত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দিয়েছি। শুনেছি ১০০ পরিবার মিলে একটি টিউবওয়েল ব্যবহার করছে। এবার সরকারি  বরাদ্দ পেলে সেখানে কয়েকটি টিউবওয়েল দেব।’

জলঢাকার ইউএনও উত্তম কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তাঁদের সমস্যাগুলো উপরে জানাব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা