kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভালুকায় ব্যাটারি কারখানা

ধোঁয়ায় ফসল বিনষ্ট জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধোঁয়ায় ফসল বিনষ্ট জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি

কালো ধোঁয়ায় বিবর্ণ মাঠের ফসল

ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক এলাকায় স্থাপিত ব্যাটারি কারখানা থেকে নির্গত এসিডমিশ্রিত বিষাক্ত ও উৎকট গন্ধযুক্ত কালো ধোঁয়ায় গাছের ফল, জমির ফসলসহ পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় লোকজন। হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ডোবালিয়াপাড়ার এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা সদরের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, ডোবালিয়াপাড়ার এক নারীর জমি ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ডবিহীন একটি কারখানা স্থাপন করা হয়। প্রায় এক বছর ধরে চলছে কারখানাটির কার্যক্রম। কারখানায় এসিডযুক্ত পুরনো ব্যাটারি ও সিসা গলিয়ে নতুন ব্যাটারি তৈরি করা হয়। এসিডযুক্ত পুরনো ব্যাটারি ও সিসা গলানোর সময় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এতে বিনষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হচ্ছে গাছপালা, মাঠের ফসল। বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে বিভিন্ন গাছের কচি পাতা। গাছে ফল আসছে না। কারখানায় ব্যাটারি গলানোর সময় কালো ধোঁয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিষাক্ত ধোঁয়ার শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। বিশেষ করে রাতে ও ভোরবেলায় ধোঁয়ার প্রভাব বেশি থাকে।

ওই ব্যাটারি কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার ক্ষতিকর বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে ভালুকা উপজেলা কৃষি অফিস। তদন্ত প্রতিবেদনেও আবাসিক এলাকায় স্থাপিত ব্যাটারি কারখানার কালো ধোঁয়ায় গ্রামের মানুষ, পশু-পাখি, আবাদি ফসল ও গাছপালার ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। আমন ধানে কালো ধোঁয়ার দৃশ্যমান প্রভাবের কথাও বলা হয়েছে। 

এলাকার কৃষকদের দাবি, ব্যাটারি কারখানার কালো ধোঁয়ার কারণে তাঁদের ক্ষেতের রোপা আমন ধান নষ্ট হয়ে বিবর্ণ হচ্ছে। কারখানা স্থাপনের আগে এলাকার এ অবস্থা ছিল না। স্থানীয় নজরুল ইসলাম প্রধান জানান, এসিডমিশ্রিত ধোঁয়া ও পানির কারণে ডোবালিয়াপাড়ার বেশ কয়েকজন কৃষকের জমির আমন ধানগাছ মরে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিকারের জন্য সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয়রা। আবুল কাশেম, নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ, ওই কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার ঝাঁজে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারে না। এ সময় বাসাবাড়িতে অবস্থান করাও কষ্টসাধ্য।

ওই কারখানায় কর্মরত আশিক মিয়া নামের একজন জানান, সেখানে একসঙ্গে চীনাদের দুটি কারখানা রয়েছে। একটির নাম ওয়াং শিয়ান ও অন্যটির নাম জং লিয়ান। তাদের কারখানা চালানোর অনুমোদন রয়েছে। কারখানা দুটির একটিতে ব্যাটারির প্লেট প্রস্তুত এবং অন্যটিতে পুরনো ব্যাটারির সিসা গলানোসহ ব্যাটারি তৈরি ও অন্যান্য কাজ করা হয়।

হবিরবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু জানান, জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে কয়েক দিন আগে তিনি আবাসিক এলাকায় স্থাপিত ওই বিষাক্ত কারখানাটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এর ট্রেড লাইসেন্স ও এনওসি বাতিল করে দেন। এর পরও তারা কিভাবে কারখানাটি চালু রেখেছে তা তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন বলে জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্যাহ জানান, বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ হতে পারে। এ ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদি হলে ভুক্তভোগীদের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল বলেন, ‘ওই কারখানা সম্পর্কে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা