kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নাটোরে ভিক্ষুক মাকে হাতুড়িপেটা

কুলাঙ্গার ছেলে

নাটোর প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বৃদ্ধ মা রাহেলা বেগম (৮৫)। তাঁর স্বামী মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। এরপর থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে নিজের পেট চালাচ্ছিলেন। এক ছেলে ও দুই মেয়ে তাঁর। অনেক কষ্টে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা এখন তাঁদের মতো করে থাকেন। বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনার কেউ নেই।

সম্প্রতি ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের শর্তে মা রাহেলা বেগমের শেষ সম্বল ভিটার একখণ্ড জমিও লিখে নিয়েছেন ছেলে নুরু সরকার (৪২)। কিন্তু জমিটি লিখে নেওয়ার পর আর মায়ের খোঁজ খবর রাখেননি তিনি।

উপরন্তু মায়ের প্রতি তাঁর অনাদর-অবহেলা বেড়েছে। তবে শর্ত ভঙ্গ করায় সেই জমি আদালতে গিয়ে ফিরিয়ে নিয়েছেন মা। জমি ফিরিয়ে নেওয়ায় মা ও বোনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন নুরু। রাহেলা বেগম গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার মৃত ইনছান সরকারের স্ত্রী।

রাহেলা বেগম বলেন, ‘তাঁর ছেলে নুরু তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়ার কথা বলে তাঁর বসতভিটা রেজিস্ট্রি করে নেয়। কিন্তু সে ভরণপোষণ না দেওয়ায় রাহেলা বেগম আদালতে মামলা করে জমিটি ফিরিয়ে নিয়েছেন। এরপর থেকেই নুরু, তার বউ শিল্পী এবং নাতিন আমিন তাঁকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিল।’

রাহেলা বেগম আরো জানান, তিনি ভিক্ষা করে নিজের পেট চালালেও এখন হাঁটতে পারেন না। এদিকে মেয়ে জোসনা বেগমের জামাই মারা যাওয়ায় তিনি মায়ের সঙ্গে থেকে তাঁকে দেখাশোনা করেন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ছেলে নুরু, ছেলের বউ শিল্পী ও নাতিন হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম নিয়ে তাঁর ঘরে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। তিনি এতে বাধা দিলে নুরু হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এরপর শিল্পী বেগম কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাহেলা বেগমকে। তিনি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলে জোসনা বেগম তাঁকে বাঁচাতে যান। এ সময় তিনজন মিলে জোসনাকেও এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। পরে প্রতিবেশীরা আহতদের গুরুদাসপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, গত রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সকালে তাঁর ছেলে নুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা