kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পঞ্চগড়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি শর্ত পূরণ না করেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন একজন গ্রাহক। পঞ্চগড় শহরের ধাক্কামারা এলাকার গ্রাহক সালাহ উদ্দিন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অভিযোগটি করেন। অভিযোগটি তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠিয়েছেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করতে হবে। এরপর নেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে লাইন সরবরাহের যাবতীয় খরচ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীকে মেইন লাইন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পুরো লাইন নির্মাণে যাবতীয় খরচের টাকা নেসকোর কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরে নেসকো দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাবেক পিডিবি ও বর্তমান নেসকোর পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আহসানুল কবির ২০১৪ সালের নভেম্বরে যোগ দেন। এরপর তিনি পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নিয়ম বা শর্ত না মেনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন। ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো তেঁতুলিয়া উপজেলার কালান্দিগছ এলাকার ফাবিহা টি কম্পানি, একই উপজেলার শালবাহান এলাকার চৌধুরীগছ এলাকার নার্গিস হাস্কিং মিল, শালবাহানের জবেদা অটোরাইস মিল, মাঝিপাড়ার ইমপেরিয়াল টি কম্পানির কারখানা, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আফতাব হ্যাচারি ব্রিডার-৫ নর্দার্ন লিমিটেড, ভজনপুরের বামনপাড়ার গ্রিন এনার্জি চা ফ্যাক্টরি, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বোর্ডবাজার এলাকার স্যালিলান টি কম্পানির কারখানা, একই এলাকার মনসুর স মিল (করাতকল), অমরখানা ইউনিয়নের ঠুটাপাখুরী এলাকার মলি চা কারখানা, হ্যালিপ্যাড এলাকার মৈত্রী চা কারখানা, এর পাশেই নর্থ বেঙ্গল টি কারখানা, পঞ্চগড় শহরের জালাসীপাড়ার জিকো অটোরাইস মিল, পঞ্চগড়ের শিংপাড়ার নিটল টাটা মিনি ওয়ার্কশপ, দেওয়ানহাট এলাকায় জমভিটা এলাকার একটি মৎস্য খামার। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটাকে সরকারি ট্রান্সফরমার ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এর আগে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সংযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগকারী সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির কোনো কাজ টাকা ছাড়া করেন না। ১৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরকারি শর্ত পূরণ না করেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার বিরাট অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ না করায় তারা একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছে। তাই আমি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে অভিযোগ করেছি।’

নেসকো পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি মিথ্যে বলেছেন। সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানেই সরকারি নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা