kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শাহজাদপুরে কলেজের সামনে ট্রাকস্ট্যান্ড

কোটচাঁদপুরে মহাসড়ক ঘেঁষে কাঠের স্তূপ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) ও কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাহজাদপুরে কলেজের সামনে ট্রাকস্ট্যান্ড

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক রোডে মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। ট্রাকে তোলার জন্য কাপড়ের গাঁইট রাখা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শাহজাদপুর বিসিক রোডের পাশেই গড়ে উঠেছে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ও খড়ের ব্যবসা। চুটিয়ে ব্যবসা করলেও পরিবেশের দিকে নজর নেই কারো। প্রতি মাসে প্রভাবশালীদের পকেটে মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা যাচ্ছে এখান থেকে।

অথচ সড়কটির পাশেই রয়েছে শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও একটি বালিকা বিদ্যালয়। এ ছাড়া রয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস। এ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজে আসতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে পূর্বপাশে রাস্তার ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাকস্ট্যান্ড। এর পাশেই ফাঁকা স্থানে চলছে খড় বিক্রির মহোৎসব। প্রতিদিন ট্রাকে মালামাল ওঠানামা করায় চলাফেরায়ও বিঘ্ন ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ফাতেমা বেগম ট্রাকের ধাক্কায় আহত হন। কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীন জানান, বারবার নিষেধ করার পরও কলেজের সামনে থেকে ট্রাকস্ট্যান্ড সরানো হয়নি। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবেশের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খান জানান, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে এ ব্যাপারে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অন্যদিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের মহাসড়ক ঘেঁষে কাঠের বড় বড় গুঁড়ি স্তূপ করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০টি স মিল। সব স মিল কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের খুব কাছে বসানো। স মিল মালিকদের সহযোগিতায় কাঠ ব্যবসায়ীরা কাঠের গুঁড়ির স্তূপ করে রাখছেন মহাসড়কের পাশে। এর ফলে মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বছরখানেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মহাসড়কের পাশ থেকে কাঠের স্তূপগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই স মিল মালিকদের সহযোগিতায় মহাসড়কের অবস্থা আগের মতো হয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি স মিলের সামনে মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে লম্বালম্বিভাবে ১৫০ থেকে ২৫০ ফুট পর্যন্ত কাঠ ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছেন। পাশাপাশি স মিলকেন্দ্রিক রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে খড়ির আড়ত এবং ফার্নিচার তৈরির কারখানা। তারাও রাস্তা ঘেঁষে খড়ির স্তূপ করে রেখেছে। ফার্নিচার মালিকরা বিক্রয়ের জন্য ফার্নিচার ও ফার্নিচার তৈরির কাঠ রেখেছেন সেই রাস্তার পাশেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমিতির নিজস্ব স মিল রয়েছে। মিলের সামনে মহাসড়কের ধারে কাঠ খুব একটা নেই। আর যেটুকু আছে আমরা তা সরিয়ে ফেলব।’

স মিল মালিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দীন মিয়া বলেন, ‘এ সমস্যার সৃষ্টি করে কাঠ ব্যবসায়ীরা। তারা কাঠ খরিদ্দারের চোখে ধরানোর জন্য রাস্তার ধারটা বেছে নেয়। আমি তাদের স মিলের সামনের রাস্তার পাশ থেকে কাঠের স্তূপ সরিয়ে নিতে বলব।’ কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা