kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

নবীগঞ্জে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, দান বাক্স লুট

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামে শ্রীশ্রী শ্মশান কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও টাকাভর্তি দান বাক্স লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার গভীর রাতে। এ ঘটনায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের দাবি, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ষড়যন্ত্র করেছে। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে মন্দির পরিদর্শন করেন পুলিশ ও বিভিন্ন মহলের নেতারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজাপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই কালীমন্দিরে নিয়মিত পূজা ও অর্চনা করে থাকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গত শুক্রবার গভীর রাতে মন্দিরের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা মন্দিরের টাকাভর্তি দানবাক্স চুরি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র এ টি এম সালাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ণ রায়, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল প্রমুখ। এ সময় তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে ঘটনাকে চুরি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেখে মুগ্ধ নাসার বিজ্ঞানীসহ পরিদর্শকদল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বাড়ছে সূচক পাখি। বনে থাকা ১১টি সূচক পাখির (ইনডেক্স বার্ড) শুমারির মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সূচক পাখির সংখ্যা বাড়লে প্রমাণিত হয় বনে উঁচু গাছ ও বনের ঘনত্ব বাড়ছে। 

বিষয়টি জানতে বন ও ক্রেল প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানী ন্যাথান থমাক, আমেরিকান ফরেস্ট সার্ভিসের চার সদস্য কলিন মেসটন, চিপস কট, হিথার হেইডেন ও জাস্টিন ব্রিক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা পেট্রিক ম্যায়র। তাঁরা বনের পাখি ও ঘনত্ব বাড়ার খবরে ও প্রকল্প পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি বন রক্ষায় সহব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করা, বনের আয় বৃদ্ধি ও বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা সাতছড়ি উদ্যানে ইউএসএইডের অর্থায়নে ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এবং টিপড়াপাড়া কমিউনিটি প্যাট্রল দলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় পাখি শুমারির কার্যক্রম সম্পর্কে সাতছড়ি উদ্যানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

ক্রেল প্রকল্পের সাইট ফ্যাসিলিটেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পাখি শুমারি ও বিভিন্ন সূচক ঘিরে বনাঞ্চলের ঘনত্ব এবং বিভিন্ন ধরনের পাখির উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরিদর্শনকারী দলটি। এ ছাড়া সাতছড়ি সহব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির ব্যবস্থাপনাজনিত সক্ষমতার বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তাঁরা বনে ট্রি অ্যাডভেঞ্চার চালু করার মতো আরো উদ্ভাবনী প্রকল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বনে প্রবেশ ফি বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য প্রধান বন রক্ষককে চিঠি দিতেও তাঁরা পরামর্শ দেন।