kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভুক্তভোগীরাই জানে যন্ত্রণাটা কী!

পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই গাজীপুর মহানগরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শহরে যাঁরা কাজে বাড়ির বাইরে আসেন কিংবা যাঁরা অন্য জেলা-উপজেলা থেকে শহরে এসেছেন, কিন্তু টয়লেট খুঁজে পাচ্ছেন না, তাঁরাই জানেন প্রস্রাব-পায়খানা চেপে রাখার যন্ত্রণাটা কী। প্রতিদিন লাখো মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হয় শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত গাজীপুর মহানগরে। পর্যাপ্ত টয়লেট না থাকায় বিশেষ করে জনবহুল চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, টঙ্গী এবং জেলা প্রশাসন ও আদালত এলাকাগুলোয় এই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

এলাকা ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা চান্দনা (জয়দেবপুর) চৌরাস্তা এবং ভোগড়া বাইপাস। এ দুই স্থানের আশপাশে ২০-২২টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ, ব্যাংক-বীমা, কয়েকটি মার্কেট, বিশাল কাঁচাবাজার, সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অফিস এবং শতাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে। এসব এলাকা হয়ে প্রতিদিন গাজীপুরের পাঁচটি উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ১১০টি রুটের যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। তা ছাড়া সরকারি কাজে জেলা প্রশাসন ও আদালতে আসা লোকজনসহ ওই সব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ চৌরাস্তা হয়ে যাতায়াত করে। অথচ ওই দুই এলাকায় পাবলিক টয়লেট নেই! এতে বিড়ম্বনায় পড়ছে পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে নারী ও বয়স্কদের। চান্দনা চৌরাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উল্কা সিনেমা হলের কাছে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও তা জানেন না অনেকে। টয়লেটটি দূরে ও অজানা থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে আশপাশে মলমূত্র ত্যাগ করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চান্দনা চৌরাস্তার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরাঙ্গী’র চারপাশে মলমূত্র ত্যাগ করছে। ফলে দুর্গন্ধে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। পথচারীদের নাক-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হয়।

জনদুর্ভোগ এখানেই শেষ নয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও কোনাবাড়ী এবং কাশিমপুর এলাকায়ও কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। একইভাবে পাবলিক টয়লেট নেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া থেকে টঙ্গী বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। টঙ্গী মিলগেট এলাকায় একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেটি ট্রাকচালক-শ্রমিকদের দখলে। 

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলকারী আলম এশিয়া পরিবহনের চালক জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি পথে প্রায়ই যাত্রী ও তাঁদের টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাবলিক টয়লেট না থাকায় তখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে সারতে হয় এই কাজ। তবে নারী যাত্রীদের জন্য কোনো পেট্রলপাম্প বা বাসা-বাড়ির পাশে দাঁড়াতে হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন কর্মচারী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘এটি (গাজীপুর) এক আজব শহর। শহরে জেলা প্রশাসক, আদালত, পুলিশ অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে। রয়েছে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন। অথচ শহরে জংশন স্টেশন ছাড়া কোথাও পাবলিক টয়লেট নেই। পুরুষরা অনেক সময় সরকারি অফিসে ঢুকে পড়েন অথবা ছোট কাজ হলে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশেই সেরে ফেলেন। কিন্তু নারীদের দুর্ভোগ সীমাহীন।’

গাজীপুরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বি এম কুদরত-এ-খুদা জানান, চান্দনা চৌরাস্তায় আগে পাবলিক টয়লেট ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য সেটি ভেঙে ফেলা হয়। এখন বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। ওই কাজ শেষ না হলে পাবলিক টয়লেটের স্থান নির্বাচন করা যাচ্ছে না। বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চৌরাস্তায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নান জানান, মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মিথ্যা’ মামলায় জেলে যাওয়ার পর ওই সব প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার পাবলিক টয়লেট স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন ও প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।