kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মা-বাবার আকুতি

মাদকাসক্ত ছেলের হাত থেকে বাঁচতে চাই

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টগবগে রিমন (২২) মাদকের নেশায় ডুবে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন। ছয় মাস ধরে তিনি প্রায়ই মা-বাবার কাছে মাদকের জন্য টাকা চান। গত বৃহস্পতিবার সকালে একই দাবি করেন। টাকা নেই জানালে মাকে হাসপাতালে গিয়ে কিডনি ও রক্ত বেচে টাকা দিতে বলেন। নিরুত্তর মা নীরবে চোখের জল মোছেন। একপর্যায়ে রিমন উত্তেজিত হয়ে মাকে মারধর ও বসতঘরের আসবাব ভাঙচুর করেন। বাধা দিলে মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাবা শাহজাহান ও মা আয়েশা বেগম বিচার চেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে গতকাল শুক্রবার অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার সোনালি কলোনির।

৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন বলেন, ‘মাদকাসক্ত রিমনের মা-বাবা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ছেলের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি অভিযোগ লিখে আমাকে দিয়েছেন। অফিস সময়ে অভিযোগটি জমা দেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, শাহাজাহানের ছোট সন্তান রিমন চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। এর পর থেকে কাজে না গিয়ে এলাকার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা জমান। সেখান থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন রিমন। প্রায়ই ঘরে এসে মাদকের জন্য টাকা দাবি করেন। না দিলেই হাঁড়ি-পাতিল ও আসবাব ভাঙচুর করেন।

শাহাজাহান বলেন, ‘একসময় রিমন ভদ্র-শান্ত ছিল। আয়-রোজগার করত। এলাকার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এখন সে মাদকে ডুবে গেছে। ছেলের অত্যাচার থেকে আমরা বাঁচতে চাই।’

আয়েশা বেগম বলেন, ‘কী ছেলে, কী হলো, ভাবতে কষ্ট লাগে। টাকা না দিলেই সে আমাদের (মা-বাবা) মারধর করে। হাসপাতালে গিয়ে কিডনি ও রক্ত বিক্রি করে টাকা দিতে আমাকে নিয়ে টানাহিঁচড়া করে।’

কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন বলেন, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের কারণে এখন ঘরে ঘরে অশান্তি। মাদকের ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তরুণ প্রজন্ম নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। অভিযোগটি পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা