kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রানা প্লাজা ধসের ৪০ মাস

রানাদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানাদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে গতকাল বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রানা প্লাজা ধসের ৪০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এ মানববন্ধনে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির সাভার থানা শাখার সম্পাদক আলম মাতব্বর। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, রানা প্লাজা শাখার সদস্য শিউলি আক্তার, রূপালী আক্তার, নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বির মা রাহেলা বেগম, প্রদীপ রায়সহ স্থানীয় নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৪০ মাস অতিবাহিত হলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় অভিযুক্ত দোষীদের শাস্তি হয়নি। শুধু তা-ই নয়, ইমারত নির্মাণ আইনে চলমান মামলার শুনানির প্রথম দিনটি ছিল ঘটনার ৪০ মাস পর গত ২৩ আগস্ট। অথচ প্রথম শুনানির দিনেও সরকার পক্ষের সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আইনের গতি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার পক্ষের সাক্ষীর অনুপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে সরকার এ মামলা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আন্তরিক নয়। বক্তারা বলেন, সোহেল রানাসহ দোষী সরকারি কর্মকর্তা যারা ইমারত মামলায় অভিযুক্ত, তাদের সবার শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা যাবে না।

বক্তাদের অভিযোগ, রানা প্লাজা, তাজরীনসহ দুর্ঘটনার নামে কাঠামোগত হত্যা ও দোষীদের শাস্তি না হওয়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি অশুভ লক্ষণ। এতে একদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না, অন্যদিকে আইনের ফাঁক-ফোকর গলে দোষীরা বেরিয়ে যাচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের অত্যধিক দাম। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তার ওপর আবার গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হওয়া মানে নতুন করে বাড়ি ও বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়া। অন্যদিকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে শিল্পের ওপরও পড়বে বাড়তি ব্যয়ের চাপ, যা সারা দুনিয়ায় পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশের শিল্প। শেষ পর্যন্ত এ চাপ এসে পড়বে শিল্পের শ্রমিকদের ওপরই। ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব গার্মেন্ট শ্রমিকের জীবনকে যেমন বিপন্ন করবে, তেমনি এ শিল্পকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। সরকারের লুটপাট ও দুর্নীতির দায় শ্রমজীবী মানুষ ও উৎপাদনমুখী শিল্পের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে আন্দোলনের মাধ্যমেই এবং সেই আন্দোলনে আরো জোরদারভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার ৯ তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়ে। তখন ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগের দিন ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। ভবনটিতে পাঁচটি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক বিপণিবিতান ছিল। বিশ্বের ভয়াবহতম এ ভবন ধসের ঘটনায় এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হয় সহস্রাধিক। এখনো শতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা