kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে ৩০০ চাষি

রাজবাড়ীর রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় ফরিদপুরে স্থানান্তর

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হঠাৎ করেই বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের আওতাধীন রাজবাড়ী জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়টি ফরিদপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে স্থানান্তরের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কার্যালয়টি স্থানান্তর করা হলে জেলার চারটি উপজেলার ২৬টি গ্রামের তিন শতাধিক কৃষককে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এ ছাড়া রাজবাড়ীতে দিন দিন বিকাশমান রেশম চাষ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

রেশম চাষ অব্যাহত রাখতে চাষিরা পাট ও বস্ত্র মন্ত্রীর কাছে কার্যালয়টি স্থানান্তর না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

জানা গেছে, রাজবাড়ীতে প্রায় ১০ বছর আগে কয়েকটি এনজিও রেশম গুটি উৎপাদনের প্রধান উপকরণ তুতগাছ লাগানো, পোকা পালন এবং গুটি উৎপাদনের কাজ শুরু করে। তবে কয়েক বছরের মধ্যে এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম থেকে সরে যায়। পরে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীতে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে। ২০১১ সালে রাজবাড়ী জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় স্থাপন করা হয়। এতে সেখানে রেশম চাষ আরো বৃদ্ধি পায়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই জেলা সদরের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য উপজেলায়ও রেশম চাষ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে জেলা সদরের রামকান্তপুর, মুরারীপুর, ভাণ্ডারিয়া, মূলঘর, দর্পনারায়ণপুর, আলীপুর, ভগিরথপুর ও মাটিপাড়া, কালুখালী উপজেলার সূর্যদিয়া, মোহনপুর, বোয়ালিয়া, মাঝবাড়ী, দয়রামপুর ও খামারবাড়ী, পাংশা উপজেলার মৈশালা, নারায়ণপুর, চরচিলকা, সত্যজিত্পুর ও বৃত্তিডাঙ্গা, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুরের নারায়ণপুর, সেখআড়া, খালকুলা, গোবিন্দপুর, বাত্তিমারা, বারমল্লিকা ও জিয়েলগাড়ি গ্রামে রেশম চাষ হচ্ছে। স্বল্প খরচে বেশি আয় হওয়ায় চাষিরা রেশম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

শহরের শ্রীপুর এলাকার জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২৬টি গ্রামের তিন শতাধিক চাষি প্রতিবছর ১১ হাজার ডিম পালন করে প্রায় চার হাজার কেজি রেশম গুটি উৎপাদন করে। যে গুটির বাজার মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা।

অথচ হঠাৎ করেই জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়টি ফরিদপুরের স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েছে চাষিরা। কারণ চাষিরা এই কার্যালয় থেকেই রেশম ঘর, ঋণ ও প্রশিক্ষণ নেয়। কার্যালয়টি ফরিদপুরে স্থানান্তর হলে জেলার রেশম চাষিরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

স্থানীয় রেশমচাষি আছিরন নেছা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন—তিনি যেন রাজবাড়ীর এ কার্যালয়টি স্থানান্তর না করেন।

বাংলাদেশ রেশম বোর্ড রাজবাড়ী সদর উপজেলা কার্যালয়ের ম্যানেজার পরিমল কুমার দে বলেন, এখন খুব সহজে এ জেলার রেশমচাষিদের সহযোগিতা করা যায়। তবে জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়টি অন্যত্র চলে গেলে চাষিদের সেখানেই যেতে হবে। এতে তারা দুর্ভোগের শিকার হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা