kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঠাকুরগাঁওয়ে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হত্যা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হত্যা

স্বামী ফয়জুল ইসলামের সঙ্গে রাবিয়া সুলতানা। ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও সদরের ফকদনপুর কসাইপাড়া গ্রামে যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় গৃহবধূ রানী আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী ফয়জুল ইসলাম পলাতক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মাস আগে সদর উপজেলা রহিমানপুর কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে রাবিয়া সুলতানা (রানী আক্তার) নিজের পছন্দেই বিয়ে করেন পাশের গ্রাম ফকদনপুর কসাইপাড়ার মো. আলমের ছেলে ফয়জুল ইসলামকে। বিয়ের সময় রানীর পরিবার ফয়জুলকে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি গরু, স্বর্ণালংকারসহ আসবাব যৌতুক হিসেবে দেয়। কিন্তু বিয়ের তিন-চার মাস অতিবাহিত হতে না হতেই ফয়জুল নানা অজুহাতে রানীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করে আসছে। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ফয়জুলকে আরো দেড় লাখ টাকা দেয় রানীর পরিবার। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি ফয়জুল।

রানীর মা লতিফা বেগম বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রানীকে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে হাজির হয় ফয়জুল। ব্যবসার অজুহাতে টাকা দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে অসম্মতি জানালে রানীকে পরিবারের সবার সামনেই মারধর করে। এ অবস্থায় আরো কিছু টাকা দিয়ে ফয়জুলকে শান্ত করা হয়। কিন্তু ফয়জুল পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে রানীকে নিয়ে তার বাড়িতে চলে যায়। পরদিন সন্ধ্যায় প্রথমে খবর আসে রানী খুব অসুস্থ, পরে জানা যায় তার মৃত্যু হয়েছে। আসলে তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছে।’

রানীর বাবা আব্দুস সালাম জানান, মেয়ের সুখের জন্য বিভিন্ন সময় তিনি জামাইকে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু গত দেড় মাসে কোনো টাকা দিতে পারেননি। এ কারণে নির্যাতন চালিয়ে রানীকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর ভাই সবুজ মিয়া বলেন, ‘বোনকে দেখতে গেলে ফয়জুল ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমাকে দেখতে দেয়নি। বলা হয়েছে, অসুস্থ তাই ঘুমাচ্ছে। অথচ রানীকে মেরে ফেলে নাটক সাজানো হয়েছে। রানীর মৃত্যুর পর থানায় জানানো হলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল ফয়জুল।’

এ ঘটনায় রানীর চাচা আনোয়ার হোসেন গত বৃহস্পতিবার সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশিদুল আলম চৌধুরী জানান, লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা