kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাঁদপুরে মেঘনার ভাঙন

দুই দিনে বিলীন তিন কিমি

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই দিনে বিলীন তিন কিমি

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। ছবিটি গতকাল দুপুরে ঈশানবালা বাজারের পাশ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেঘনা নদীর স্রোতে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের তিন কিলোমিটার এলাকা গত দুই দিনে ভেঙেছে। ইতিমধ্যে সেখানকার প্রধান বাজার ঈশানবালা ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে সহায়-সম্বলহীন হয়েছে হাজারো মানুষ।

হাইমচরের মোট ছয়টি ইউনিয়নের তিনটি মেঘনা নদীর পশ্চিমপারে। এর মধ্যে নীলকমল ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৩০ হাজার। কয়েক বছর ধরে সেখানে মেঘনার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও এবারে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই দিনে তীব্র ভাঙনে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার কয়েক শ বসতবাড়ি, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়, মসজিদ ও বিস্তীর্ণ ফসলিজমি চলে গেছে নদীগর্ভে। দিনে নদী শান্ত থাকলেও রাতে জোয়ারের প্রভাব ও স্রোতের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সহায়-সম্বল হারানো মানুষজন তাদের কষ্টের কথা জানায়।

ঈশানবালা বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, তাঁরসহ ৪০-৫০টি দোকান দুই দিনের মাথায় নদীতে চলে গেছে।

মতি গাজী জানান, বাজারের দুই পাশের মোট তিন কিলোমিটার এলাকার কয়েক শত একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার এখন গৃহহীন। ভেঙেছে নীলকমল ইউপি কার্যালয়, ভূমি কার্যালয়, একটি মসজিদ। হুমকির মুখে রয়েছে বাজারের একাংশ, উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও পুলিশ ফাঁড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশানবালা ও এর আশপাশের জনপদ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় সাত কোটি টাকার কাজ দিয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন করপোরেশনকে। গত মার্চে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে কাজ শেষ করার কথা ছিল প্রতিষ্ঠানটির। কিন্তু সামান্য কিছু কাজ করে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘শুধু ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা ও গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়নি। ফলে এই বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হলো এলাকাটি।’

আরেক ইউপি সদস্য মিজান সর্দার জানান, মোট এক লাখ ৬০ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ দিয়ে নদীতীর সংরক্ষণ করার কথা ছিল। মাত্র ৩০ হাজার বস্তা ফেলে গা ঢাকা দেয় ঠিকাদার ও তাদের লোকজন।

নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সর্দার বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতার কারণে পুরো কাজ না করে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনিকে জানিয়েছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঠিকাদার জানিয়েছেন, শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। তা ছাড়া বর্ষা চলে আসায় সব কিছু ভেস্তে যায়। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা