kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কুষ্টিয়ার মিরপুরে পরিত্যক্ত কোয়ার্টার

রেলের জমি ভাগাভাগি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৭ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেলের জমি ভাগাভাগি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রেলওয়ের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলো এত দিন স্থানীয় লোকজন দখল করে বসবাস করত। সেখানে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি সেখানকার লোকজনকে উচ্ছেদ করে কোয়ার্টারগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দখলমুক্ত ওই জায়গা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্লট আকারে বিক্রি করছে। স্থানীয় আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিটি প্লট ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হালসা বাজারসংলগ্ন স্টেশনের কয়েক বিঘা জমির ওপর রেলের পাকশি জোনের একতলা ৯টি কোয়ার্টার ছিল। এসব কোয়ার্টার আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ। তার পরও এসব কোয়ার্টার স্থানীয় কয়েকটি পরিবার অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করে আসছিল। এসব কোয়ার্টারে মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি রেলের পাকশি জোনের কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টার ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবন অপসারণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। টেন্ডারে ভবনগুলো অপসারণের কাজ পান পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর একজন ঠিকাদার। পরে ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী টুটুল। কয়েক সপ্তাহ আগে এসব ভবন উচ্ছেদ শুরু করা হয়। এখনো উচ্ছেদ অভিযানের কাজ চলছে। সেখানে ইট ও সুরকি পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানায়, উচ্ছেদ অভিযান শেষ না হতেই উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু জমি দখল হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসব জমি দখল করে ভাগাভাগি করে প্লট করে নিয়েছেন। ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান টুটুলসহ তাঁর লোকজন এসব প্লট বাণিজ্যের পেছনে আছেন। এ ছাড়া এই প্লট বাণিজ্য সিন্ডিকেটের আরেকজন মোশাররফ হোসেন। তিনি সম্প্রতি জাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। এলাকাবাসী জানায়, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে উদ্ধার হওয়া রেলের এসব জায়গা সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দরখাস্ত দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দখলদার লোকজনের নাম-পরিচয়ও তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এ অভিযোগ ডাকযোগে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।

কোয়ার্টার থেকে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকটি পরিবারের বাসিন্দাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ‘রেল আমাদের উচ্ছেদ করেছে তাতে দুঃখ নাই। তবে আমাদের উচ্ছেদ করে প্রভাবশালী লোকজন দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে। এটা কেউ দেখছে না।’

দখলদার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘টুটুল ভাইয়ের নেতৃত্বে সব কিছু হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া রেলের এসব জমিতে খুঁটি পোঁতা হয়েছে। কংক্রিটের পিলার তুলছে কেউ কেউ। চেয়ারম্যান টুটুল ছাড়াও সাবু ডাক্তার, আহম্মদ আলী, হারুন, জাহাঙ্গীর, আশরাফুলসহ এলাকার আরো কিছু আওয়ামী লীগ নেতা এসব প্লটের ভাগ পেয়েছেন। ১০ ফুট বাই ১৪ ফুট করে জায়গা দেওয়া হচ্ছে একেকজনকে। এ জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা আহম্মদ আলী জানান, একটি জায়গা উদ্ধার হলে কেউ না কেউ তো দখল করবেই। এখন ভাঙার কাজ চলছে। ভাগাভাগি এখনো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, যারা দখলে ছিল, এসব জায়গা তারাই পাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল বারী টুটুল বলেন, ‘ভাঙার কাজ ঠিকাদারই করছে। আমরা ইটগুলো কিনেছি। যার যার দখলে ছিল তারাই প্লট করছে। কেউ না কেউ অবৈধভাবে দখল করে ছিল। সারা বাজারই অবৈধভাবে ছিল।’ প্লট বা দোকান আকারে বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজনীতি করি বলে বিরোধী লোকজন এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে পাকশী রেলওয়ে জোনের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী-১ আবু জাফর মিয়া বলেন, পুরনো কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে অবৈধভাবে কয়েকটি পরিবার বাস করত। তা ছাড়া কোয়ার্টারগুলোতে মাদক বিক্রিসহ অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। এ জন্য দরপত্রের মাধ্যমে একজন ঠিকাদারের কাছে কোয়ার্টারগুলো ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যারা কাজ পেয়েছে তারাই ভাঙছে। এলাকার কিছু মানুষ ওই জায়গায় প্লট বা দোকান আকারে বিক্রি করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম করার কোনো সুযোগই নাই। এটা কেউ করতে পারে না। আপাতত সেখানে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হবে যাতে কোনো সমস্যা না হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা