kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মেলছে সম্ভাবনার ডানা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেলছে সম্ভাবনার ডানা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় বছর গবেষণার পর তিতিরের বাণিজ্যিক পালনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে গবেষকদল। ইনসেটে তিতিরের ডিম। ছবি : সংগৃহীত

তিতির। সচরাচর দেখা যায় না এই পাখি। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে পাখিটি বেশ অপরিচিত। প্রায় ৭০০ বছর আগে বন-জঙ্গল থেকে গৃহপালিত পাখির কাতারে আসা আফ্রিকান এ পাখিটি ইউরোপ হয়ে ব্রিটিশ উপনিবেশ সময়ে আসে দক্ষিণ এশিয়ায়। এ দেশে চায়না মুরগি হিসেবে পাখিটির সামান্য পরিচিতি থাকলেও বাণিজ্যিক পোল্ট্রির দাপটে বিলুপ্তির পথে হাঁটছে তিতির। আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে ‘আশঙ্কাহীন’ ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশে পাখিটি ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে বিবেচিত। এত কিছুর পরও মহাবিপন্ন এই পাখিটির বাংলাদেশে বাণিজ্যিক লালন-পালনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় চলছে তিতির গবেষণা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন করছে এই গবেষণার অর্থায়ন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে গবেষণার পর পাখিটির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস। ডিম আর মাংসের উৎস চিন্তা করলে পাখিটি দারিদ্র্য বিমোচনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গবেষকরা।

ড. সুবাস জানান, তিতিরের রয়েছে তিনটি প্রজাতি। এর মধ্যে একটি প্রজাতির তিতির নিয়ে গবেষণা করে সম্প্রসারণে সফলতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় পাখিটি বিনা মূল্যে বিতরণও করা হয়েছে। তিনি যে প্রজাতির তিতির নিয়ে গবেষণা করেছেন সেটির  বৈজ্ঞানিক নাম ঘঁসরফধ সবষবধমত্রং। এ প্রজাতির তিতিরের দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩৪ সেন্টিমিটার, ডানা ১৫ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ২.৪ সেন্টিমিটার, পা ৪.৮ সেন্টিমিটার ও লেজ ১০ সেন্টিমিটার। পুরুষ ও স্ত্রী তিতিরের চেহারা ভিন্ন। সচরাচর একাকী কিংবা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায় এই পাখিটি। খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, কচি কাণ্ড, ফল ও পোকামাকড়। ঊষা ও গোধূলিতে এরা বেশি কর্মচঞ্চল হয়।

গবেষক আরো জানান, সংক্রমণ বা পরজীবী তিতিরকে সহজে

আক্রমণ করতে পারে না। ফলে খামারে তিতির পালন করতে আলাদা কোনো ভ্যাকসিন কিংবা ওষুধের প্রয়োজন হয় না।  প্রতিকূলতার সঙ্গে বাণিজ্যিক মুরগি চলতে না পারলেও তিতির চলতে পারে। বছরে একটি তিতির ১০০ থেকে ১২০টি ডিম দেয়। ডিমগুলো হলদে জলপাই থেকে হালকা জলপাই বাদামি বর্ণের হয়। ডিম থেকে বাচ্চা উত্পাদন ও পালনের সবগুলো ধাপ বাকৃবি গবেষণা খামারে শেষ হওয়ার পর এখন তিতির ছড়িয়ে পড়ছে উদ্যোক্তাদের খামারে। খামারে তিতির পালন করে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব।

ড. সুবাস জানান, দেশি মুরগি খামারে ছয় মাসে ৭০০-৮০০ গ্রাম বা সর্বোচ্চ এক কেজি ওজনের হয়। কিন্তু তিতির ১৫০০ থেকে ১৬০০ গ্রামের হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি ওজনের হয়। তিতিরের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ কারণে এর চাহিদা দেশী মুরগির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বাজারে প্রতিটি তিতির ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন তিতিরের খাবার খরচ পোল্ট্রি বা দেশী মুরগীর চেয়ে অনেক কম হওয়ায় খামারীরাও পাখিটির বাণিজ্যিক পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা