kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধর্ষণের মামলা করতে যাওয়ার পথে হামলা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বজনরা অভিযোগ জানাতে থানায় যাওয়ার পথে গতকাল শুক্রবার সকালে হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের নান্দাইল ও ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর অভিযোগ, এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামী ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। স্বামীর সঙ্গে তিনি সেখানেই থাকেন। কয়েক দিন আগে তিনি বাড়ি আসেন বেড়াতে। গত ১৫ মে রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হলে প্রতিবেশী নাজিম উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন মিয়া তাঁর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। পরে একাধিক যুবকের পাহারায় হুমায়ুন তাঁকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর থানায় যেতে চাইলে গ্রাম্য সালিসকারীরা বিচারের আশ্বাসে বাধা দেয়।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা জানান, গ্রাম্য সালিসকারী আবদুস সালাম, আবদুল কাদির ও ইদ্রিস আলীরা গত এক সপ্তাহেও বিচারের পরিবেশ তৈরি না করায় তিনি তাঁদের কাছে দেরির কারণ জানতে চান। এতে কাদির (ধর্ষকের মামা) ক্ষিপ্ত হয়ে যা ইচ্ছা তা করতে বলেন। এ অবস্থায় তিনি কয়েকজন স্বজন ও নির্যাতনের শিকার মেয়েকে নিয়ে গতকাল সকালে নান্দাইল থানার উদ্দেশে রওনা হন। বিষয়টি জানতে পেরে নান্দাইল-ত্রিশাল সড়কে উঠতেই হুমায়ুনের পক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে এলাকার লোকজন এসে তাঁদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ চরলক্ষ্মীদিয়া মোড়লপাড়া এলাকার মাতবর মো. ইদ্রিস আলী বলেন, হুমায়ুন ওই মেয়েকে ধরে টানাহেঁচড়া করেছে বলে মেয়ের বাবা তাঁকে জানিয়েছেন।

হুমায়ুনের মামা আবদুল কাদির জানান, ঘটনা সাজানো বুঝতে পেরে এ বিষয়ে সালিসের আয়োজন করা হয়নি। গৃহবধূকে খারাপ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, 'সালিসে টাকা নেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।' তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর আগে অভিযুক্ত হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সালিসে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছিল। সেই সালিসেও সভাপতি ছিলেন মো. ইদ্রিস আলী। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

নান্দাইল মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপপদির্শক মুরাদ আলী শেখ বলেন, গতকাল দুপুরে একজন আহত ব্যক্তি মেয়েকে নিয়ে থানায় এসেছিল। আহত লোকটিকে আগে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা