kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ভোলা

'ধানের কথা না কইয়া মাথায় বাড়ি দেন'

শিমুল চৌধুরী, ভোলা   

২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'এই ধানে আমাগোরে খয়রাতি কইর‌্যা দিছে। ধানের বীজ, সার, পানি ও স্কিমসহ ১৩ হাজার টাকা খরচ কইর‌্যা ছয় গণ্ডা জমিতে বীজ রোপণ করছিলাম। কিন্তু আমরা কৃষকরা এইবার ব্রি-৪৭ ধানের বীজ রোপণ কইর‌্যা একেবারেই মার খাইছি। সব ধান মইর‌্যা সাফ অইয়া গেছে।'

জমির ধান হারিয়ে এভাবেই নিজেদের আবাদি জমির ধান নষ্ট হওয়ার কথা জানালেন ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম।

একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. মাইনুদ্দিন জানান, তিনি ছয় গণ্ডা জমিতে ব্রি-৪৭ ধানের বীজ রোপণ করেন। বীজ, সার ও পানিসহ তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু ধান পেয়েছেন মাত্র ১০ মণ। প্রতি মণ ধানের বাজার মূল্য ৩০০ টাকা হিসাবে তিনি মাত্র তিন হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'ধানের কথা না কইয়া আমাগোর মাথায় একটা বাড়ি দেন।'

৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. সিরাজ জানান, তিনি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ৯ গণ্ডা জমিতে ব্রি-৪৭ ধানের বীজ রোপণ করেছিলেন। ধান পেয়েছেন মাত্র ৪০ মণ। তিনি মাত্র ১২ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। এভাবে কথা হয় আরো একাধিক কৃষকের সঙ্গে। সবাই ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান।

তাঁরা জানান, ধনিয়া এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা বেগমের পরামর্শে ভোলা শহরের মেসার্স ইলিশা অ্যাগ্রো ট্রেডিং নামে একটি কীটনাশক দোকান থেকে তাঁরা ব্রি-৪৭ ধানের বীজ কিনেছেন। ওই ধান বীজই তাঁদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা কীটনাশক ও বীজ কম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কৃষককে ওইসব কম্পানির বীজ ও কীটনাশক কেনার পরামর্শ দেন। আর কৃষকরা তাঁদের পরামর্শে বীজ, কীটনাশক ও সার কিনে প্রতারিত হন। অথচ ওই কীটনাশক দোকানের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, 'আমার দোকানে শুধু কীটনাশক ওষুধ বিক্রি করা হয়। ধান বীজ বিক্রি করা হয় না।' কৃষকের কাছে ব্রি-৪৭ ধানের বীজ বিক্রি করেননি বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ওই দোকানের কর্মচারী মাইনুদ্দিন বলেন, তাঁরা গত বছর ব্রি-৪৭ ধানের বীজ বিক্রি করলেও এ বছর কোনো ধান বিক্রি করেননি। অন্যদিকে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের একজন পিপিএম জানান, মেসার্স ইলিশা অ্যাগ্রো ট্রেডিং নামের ওই দোকানে প্রতিবছরই ধান বীজ বিক্রি করা হয়। দোকানের মালিক একজন ডিলার। সেখানে ন্যায্য মূল্যে কৃষি অধিদপ্তরের সার বিক্রি করা হয় বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কৃষি অধিদপ্তর ভোলা অফিসের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালী বলেন, ব্রি-৪৭ বোরো বীজ ধান একটি লবণ সহিষ্ণু জাত। তাই ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা এ বীজ ধান বেশি রোপণ করে থাকেন। এ ধানে নেট ব্লাড নামে একটি রোগের আক্রমণের কারণে ভোলা সদর ও লালমোহনের কিছু এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ভোলা সদরে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনি আরো বলেন, যে মুহূর্তে ধান পাকা শুরু হয় ঠিক সেই মুহূর্তেই ধানের ঘাড়ে এ রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। এতে হঠাৎ করেই ধান মরে যায়। এ সময় ওষুধ দিলেও কোনো কাজ হয় না।

 

মন্তব্য