kalerkantho


শ্বেতপদ্মের শুভ্রতা

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



শ্বেতপদ্মের শুভ্রতা

ফুলের রানি পদ্ম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় বলেছিলেন ১০৮টি নীলপদ্মের কথা! এমনি সাহিত্যের পরতে পরতে পদ্মের নানা উপাখ্যান প্রাধান্য পেয়েছে।

তবে নীল কিংবা গোলাপি নয়, এবার শ্বেতপদ্মের দেখা মিলল তানোর উপজেলা সীমানাবর্তী চৌবাড়িয়া ইটভাটার পাশে আন্দাশুরা বিলে। শরতের ফুল হলেও বর্ষাতেই তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয়েছে শ্বেতপদ্ম। প্রকৃতিতে নিজের রূপবৈচিত্র্য অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে এ জলজ ফুলের রানি।

প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শ্বেতপদ্ম বিলের সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করেছে। তাই প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরন্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছে! দিন দিন বাড়ছে বিলপাড়ে শ্বেতপদ্ম ফুল দেখতে আসা মানুষের সংখ্যা। তবে বর্তমানে নীল ও গোলাপিপদ্মের অহরহ দেখা পাওয়া গেলেও শ্বেতপদ্ম (সাদাপদ্ম) এখন অনেকটা বিলুপ্তের পথে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রবীণরা।

সরেজমিনে গিয়ে গতকাল শুক্রবার দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ বিল। মাঝে ধানক্ষেত। আর ধানক্ষেতের পাশেই চারদিকে ভেসে রয়েছে অগণিত পদ্ম। সাদাপদ্ম ফুল, সোনালি ধানক্ষেত আর নীল আকাশ—এই তিন রং মিলে সেখানে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গায় পদ্ম ভালো জন্মে। তবে খাল-বিল, হাওরাঞ্চলেও এ ফুল জন্মাতে পারে। সাদাপদ্মের পাতা বড় ও গোলাকৃতি। বর্ষাকালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় ও বহু পাপড়িযুক্ত। হিন্দুদের দুর্গাপূজায় পদ্মফুলের প্রয়োজন হয়। এ ফুলে ভেষজ গুণও রয়েছে। পদ্মের মূল, কাণ্ড, ফুলের বৃন্ত ও বীজ খাওয়া যায়। পুরনো গাছের কন্দ ও বীজের সাহায্যে এদের বংশবিস্তার হয়।

উপজেলা সদর থেকে আন্দাশুরা বিল দেখতে আসা দর্শনার্থী রিগান মণ্ডল জানান, এমন সুন্দর শ্বেতপদ্ম দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। আরেক দর্শনার্থী হায়দার আলী বলেন, ‘দূর থেকে এমন সুন্দর পদ্মফুল দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। তাই ছুটে গিয়ে হাঁটুপানি মাড়িয়ে কয়েকটি পদ্মফুল ও পদ্মের পাতা তুলে নিয়ে এলাম। সত্যি এ এক অন্য রকম অনুভূতি।’


মন্তব্য