kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

[ উৎসব সবার ]

পুরুষরা পারলে আমরা কেন পারব না

চুয়াডাঙ্গা শহরের দাসপাড়ায় শিবমন্দির মহিলা সংঘের উদ্যোগে পাঁচ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ২১ সদস্যবিশিষ্ট এই সংঘের সবাই নারী। তাঁদের এই আয়োজন দেখতে প্রতিবার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করে দাসপাড়ায়। লিখেছেন মানিক আকবর

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরুষরা পারলে আমরা কেন পারব না

শিবমন্দির মহিলা সংঘের কয়েকজন সদস্য। ছবি : লেখক

চুয়াডাঙ্গা শহরের উত্তর প্রান্তে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দাসপাড়া। এখানে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পাঁচ বছর ধরে নারীদের আয়োজনে চলছে দুর্গাপূজা। শিবমন্দির মহিলা সংঘের আয়োজনে এখন যে স্থানে দুর্গাপূজা হয় সেখানে ৩০ বছর আগে প্রথমবার দুর্গাপূজা হয়েছিল। এলাকার বাসিন্দারাই এ আয়োজন করত।

বিজ্ঞাপন

১৫-১৬ বছর চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। শিবমন্দির মহিলা সংঘের প্রবীণ সদস্য উমা রানী দাস বলেন, “ভেতরে ভেতরে আমাদের একটু দুঃখ ছিল। প্রতিমা তৈরি এবং পূজার কাজ যদি আবার করা যেত ভালো হতো। তাই ২০১৮ সালে এলাকার তরুণী এবং গৃহবধূরা উদ্যোগী হয়ে ‘শিবমন্দির মহিলা সংঘ’ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটিই আলোচনা করে দুর্গাপূজাসহ সব পূজা-পার্বণের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ” শিবমন্দির মহিলা সংঘের সভাপতি মৌসুমী দাস বলেন, ‘পুরুষরা পারলে আমরা কেন পারব না? এই সাহস থেকেই আমরা শুরু করেছিলাম। পাঁচ বছর ধরে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। ভালোভাবেই আমরা প্রতিবার আয়োজন শেষ করেছি। এবারও সুষ্ঠুভাবে তা করতে চাই। ’

শিবমন্দির মহিলা সংঘের সাধারণ সম্পাদক টুম্পা রানী দাস বলেন, ‘বয়স্কদের কাছ থেকে জেনেছি, একসময় এই স্থানে পূজা-অর্চনা হতো। ২০১৮ সাল থেকে আমরা নিয়মিত দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা, কালীপূজাসহ অন্য সব পূজার আয়োজন করে থাকি। এসব আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থাকেন পাড়ার তরুণ-তরুণীরা। পূজার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রসাদও বিতরণ করা হয়। ’

জানা গেছে, এখানে পূজামণ্ডপ সাজানো, অতিথিদের আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ সব কার্যক্রম দেখভাল করেন নারীরা। প্রতিবার পূজায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। এবার বাজেট এক লাখ ২০ হাজার টাকা। শিবমন্দির মহিলা সংঘের সদস্যরাই এই অর্থের জোগান দেন।

শারদীয় উৎসবে পূজা-অর্চনা ছাড়াও থাকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তরুণ-তরুণীরা শঙ্খনাচ, গান, বেলুন খেলা, কৌতুক ইত্যাদি পরিবেশন করেন। নারীদের অংশগ্রহণে নাটিকাও অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজন ছোট-বড় সবার মনে উৎসবের আমেজ এনে দেয়। ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়।

পূজা উদযাপন পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কিশোর কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সংঘের নারীরা এই দুর্গাপূজায় সম্পৃক্ত থাকেন। তাঁরাই করেন সব কিছু। তাঁদের আয়োজন থাকে পরিচ্ছন্ন এবং বেশ পরিকল্পিত। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসে তাঁদের আয়োজন দেখতে। জেলায় এ বছর ১২৩টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। এর মধ্যে শিবমন্দির মহিলা সংঘের আয়োজনটি বেশ ব্যতিক্রমী। ’

শিবমন্দির মহিলা সংঘের সাধারণ সম্পাদক টুম্পা রানী দাস বলেন, ‘সারা বছরের সব আয়োজন নিজেদের অর্থায়নে করে থাকি। পূজামণ্ডপের স্থানটি অন্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন। এই স্থানটি যত দিন ফাঁকা থাকবে আমরা আমাদের আয়োজন করতে পারব—এমন সম্মতি আমরা পেয়েছি। সামনে এই আয়োজনের পরিধি বাড়াতে চাই। আর্থিক কারণে অনেক সময় আমরা সবটা পেরে উঠি না। সরকারি সহায়তায় শিবমন্দির মহিলা সংঘের নামে একটুকরা জমি পেলে ভালো হতো। ’



সাতদিনের সেরা