kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সবার প্রিয় ছোটন স্যার

১৩ বছর ধরে বয়সভিত্তিক ও বাংলাদেশ নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। সাফের আগেও দেশকে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আল সানি

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবার প্রিয় ছোটন স্যার

গোলাম রব্বানী ছোটন। ছবি : মীর ফরিদ

দশ ভাই-বোনের মধ্যে ছোটন নবম। বগুড়া মিউনিসিপ্যালিটি হাই স্কুলে ফুটবলের হাতেখড়ি। শৈশবে ছিলেন গোলরক্ষক। স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক জহুরুল ইসলাম পরামর্শে স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলা শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ঢাকায় এলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে বাসাবো তরুণ সংঘের হয়ে পাইওনিয়ার ফুটবলে অভিষেক ঘটে তাঁর। খেলেছিলেন রক্ষণভাগের কাণ্ডারি হিসেবে। তিন মৌসুম পর ছোটনের সামনে সুযোগ আসে সিনিয়র ডিভিশনে খেলার। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে যোগ দেন ফকিরাপুল ক্লাবে। ১৯৯৩ সালে দেশে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন আরামবাগ ক্লাবে। ফকিরাপুলে ছিলেন পাঁচ বছর, ওয়ারীতে তিন বছর এবং বিআরটিসিতে মাত্র এক বছর। ২০০২ সালে এসে খেলোয়াড়িজীবনকে বিদায় জানান। তবে এর আগেই কোচিং জীবন শুরু হয়ে গিয়েছিল ছোটনের। ১৯৯৩ সালে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ছোটনের সুবাদে সেবার তৃতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে খেলার সুযোগ পেল টিঅ্যান্ডটি। ২০০৬ সালে বাফুফেতে কোচ হিসেবে যোগ দেন। পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের সহকারী কোচ, ছেলেদের বয়সভিত্তিক দল ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করেন তিন বছর। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি নারী ফুটবলের দায়িত্ব পান। ‘নিজেকে কোচ বা প্রশিক্ষকের চেয়ে মনে হয়েছে একজন বাবা বা অভিভাবক। বাবার মতোই মেয়েদের আগলে রেখেছি। নিজে খেলোয়াড়িজীবনে সবচেয়ে বেশি সুফল পেয়েছি শৃঙ্খলায়। মেয়েদেরও প্রথমে ডিসিপ্লিন শিখিয়েছি। কখন ঘুম থেকে উঠবে, কখন মাঠে যাবে, কী ধরনের খাবার খাবে, মানসিকভাবে প্রশান্ত কিভাবে থাকা যায়—সব কিছুতেই ওদের মানিয়ে নিতে সাহায্য করে গেছি’, বলেন ছোটন।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ড কাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে। এই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়দের বাছাই করেন ছোটন ও বাফুফের কর্মকর্তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাইকৃত ফুটবলার নিয়ে শুরু হয় প্রাথমিক ট্রেনিং ক্যাম্প। সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের আগেই ডিসিপ্লিন শিখিয়ে দিয়ে মেয়েদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করানো হয়। যেটির পুরো দায়িত্ব আসলে ছোটনের ওপরই। আঞ্চলিক পর্যায়ে বাছাই করা দলকে আন্তর্জাতিক মাঠে হুট করে নামিয়ে দিলেই তারা ভালো ফল শিগগির নিয়ে আসতে পারবে না—এটা ভালো করেই জানতেন। তাই ধীরে এগিয়েছেন ছোটন। ২০১৪ সাল অবধি নারী দলের সাফল্যে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারেনি কেউই। তবে পরের বছর দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। সেবার নেপালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় নারী ফুটবল দল। ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে হওয়া একই টুর্নামেন্টে আবারও চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। মে মাসে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্ট শেষ করে সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বে খেলতে হয়েছিল। এই টাইট শিডিউলের মধ্যেও সাবিনারা বাছাই পর্ব পেরিয়ে জায়গা করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে। ২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। পরের দুই আসরে হয় রানার্স আপ। ২০১৮ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় প্রথমবারের মতো। সেখানেও চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এত এত সাফল্যের ক্রেডিট ছোটন একা নিতে রাজি নন। কিন্তু লোকের নানা কথা হজম করতে হয়েছিল কেবল তাঁকেই। হেঁটে যাওয়ার সময় ‘মেয়েদের কোচ’ বলেও টিটকারি মেরেছে অনেকে।

শুধু জাতীয় দল নয়, তাঁর সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলগুলোর বোঝাপড়াটাও দারুণ। বললেন, ‘প্রত্যেকটি মেয়ে উঠে এসেছে একেবারে গ্রাম থেকে। খেলার সূত্রেই অনেকের প্রথমবারের মতো ঢাকায় আসা। তবে এরা পরিশ্রমী। আমি শুধু তাদের পথটা বাতলে দিয়েছি। মেয়েরা ফুটবল ফেডারেশন ভবনের চারতলায় থাকে। পরিবার ছেড়ে এখানে থাকা খুব একটা সুখের কথা নয়। তবে একসঙ্গে থাকার কারণে তাদের সমস্যাটা কম হয়েছে। আমি ওদের শুধু বুঝিয়েছি বোঝাপড়া, আন্তরিকতা আর ডিসিপ্লিন—এই তিনটি বিষয় ভালো হলে যেকোনো দলকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব’, বলেন ছোটন।



সাতদিনের সেরা