kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

[ বেড়ানো ]

আবার যাব বোটানিক্যাল গার্ডেনে

জুয়াইরিয়া জাহরা হক   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার যাব বোটানিক্যাল গার্ডেনে

ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকে উদ্যানটি

দেশে সময় ও সুযোগ মিললেই বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরে আসতাম। গাছপালার ওপর হাঁটতে বা একটা চাদর পেতে বসে গল্প করলে খুব আরাম লাগে। তুরস্কের গাজিয়ান্তেপেও নাকি বেশ সুন্দর একটা বোটানিক্যাল গার্ডেন আছে। পরিচিত এক ভাই ভাবিকে নিয়ে বেড়িয়ে এসে ভালো রিভিউ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন আগে ছুটিতে গাজিয়ান্তেপ বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে বেড়িয়ে এলাম আমরাও। মানে আমি আর আমার স্বামী।

বাসার কাছের সেন্টার থেকে ট্রামে চেপে চার-পাঁচটা স্টেশন পেরোলেই বোটানিক্যাল গার্ডেন। টিকিটের দাম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিন লিরা আর অন্যদের জন্য পাঁচ লিরা। গার্ডেনে ঢুকেই মন চনমনে হয়ে উঠল। বলা যায়, প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে গেলাম! প্রায় সব গাছে ফুল আর নতুন পাতা। প্রবেশপথের এক পাশজুড়ে গাছের চারা বিকিকিনি হচ্ছে। খুপরির মতো দোকানগুলোয় ছোট ছোট গাছ ফুলে ফুলে নুয়ে আছে। কী যে মিষ্টি লাগল দেখতে! সেখান থেকে কিছুদূর এগোতেই একটা কাঠের ফলক। তাতে বেশ কিছু বিধি-নিষেধ লেখা—উদ্যানের ভেতরে বারবিকিউ করা বা কোনো ধরনের আগুন জ্বালানো যাবে না, গাড়ি পার্ক করা যাবে না, বিদ্যুতের তারে হাত দেওয়া যাবে না ইত্যাদি।

গাজিয়ান্তেপ বোটানিক্যাল গার্ডেনে লেখক

গাছে গাছে ফুল থাকায় নরম সুন্দর একটা ঘ্রাণ উদ্যানজুড়ে। হরেক রকমের গাছ আছে এখানে। উদ্যানের একটা অংশ শুধু জাপানের কিছু গাছ নিয়ে। তার পাশেই গোলাপের গাছগুলো গোলগাল কলিতে ঠাসা! কয়েক দিন পরই এরা পিটপিট করে চোখ মেলবে। এর পাশেই টিউলিপ। এ ছাড়া অনেক নাম না জানা নতুন ফুল আর গাছ প্রথমবারের মতো দেখলাম। এখানে একেক ধরনের গাছ একেক লেনে সাজানো। একটা ফলকে লেখা ‘রং ও ঘ্রাণের বাগান’। কাছাকাছি যেতেই মিষ্টি একটা ঘ্রাণ এসে লাগল নাকে। এখানে সরু একটা লেক আছে। সেই লেকে শাপলা আর জলপদ্মের মতো ফুল ফুটে আছে কিছু। লেকের ওপর কাঠের সেতুটি দুই পাশকে যুক্ত করেছে। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য কিছুদূর পর পর কাঠের তৈরি ছাউনি আছে। সেই ছাউনির মাথায় লতানো গাছ। একটু এগোতেই দেখলাম ময়ূর। এক রঙিন হাঁসের সঙ্গেও মোলাকাত হলো। উদ্যানের একেবারে শেষ সীমানায় আছে একটি ধাঁধার দেয়াল। সেই দেয়ালের অনেক জানালা, সবই বন্ধ। জানালাগুলোর ওপর একটি করে ধাঁধা লেখা। জানালা খুললেই জানা যাবে ধাঁধার উত্তর। আইডিয়াটা দারুণ লাগল।

ঘণ্টাখানেক ছিলাম উদ্যানের ভেতর। অতটুকু সময়ের মধ্যেই আমরা তিন জোড়া নতুন জামাই-বউ দেখেছি, যাঁরা এখানে এসেছেন বিয়ের যুগল ছবি তুলতে। তুর্কিদের রূপ নিয়ে তো নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তার ওপর যখন একটু সাজুগুজু করে, তাদের দিকে তখন তাকালেই চোখে ধাঁধা লেগে যায়। অপূর্ব সুন্দর!  যা হোক, হাঁটাহাঁটি আর ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফিরলাম আর মনে মনে ঠিক করে রাখলাম, কয়েক দিন পরে গোলাপের সব কলি ফুটে বেরোলে আবার বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাব।



সাতদিনের সেরা