kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

এশিয়ার সেরা আইইউটি

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মার্স রোভার টিম অভিযাত্রিকের হাত ধরে ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ ২০২২-এ এলো দারুণ এক সাফল্য! বড় বড় দলকে পেছনে ফেলে এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ১১তম স্থান অর্জন করেছে টিম অভিযাত্রিক। দলটি এশিয়ার অন্য সব দলের মধ্যে হয়েছে সেরা। পোল্যান্ডে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল রাউন্ডে বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে তারা। লিখেছেন আল সানি

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এশিয়ার সেরা আইইউটি

নিজেদের বানানো রোবটের সঙ্গে অভিযাত্রিক দলের সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত

সব মিলিয়ে ৬৪টি দল, সেখান থেকে মূল পর্বে যাবে মাত্র ১৬টি। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক মঙ্গলযান তৈরির প্রতিযোগিতা ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ-২০২২ এর হিসাব-নিকাশ এ রকমই। সেখানে বাজিমাত করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্স রোভার টিম ‘অভিযাত্রিক’। প্রতিযোগিতার অনসাইট এডিশনের ফাইনাল রাউন্ডে উঠেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১১তম অবস্থানে আছে দলটি। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থান এখন সর্বোচ্চ।

এবার প্রাথমিক বাছাইয়ে সুযোগ পেয়েছে মোট ১৭টি দল। আগামী ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ফাইনাল রাউন্ড হতে যাচ্ছে পোল্যান্ডে। সেখানে বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে অভিযাত্রিক। দলের অধিনায়ক আশরাফুল হক বলেন, ‘এই ফলে আমরা খুবই আনন্দিত। তবে এখনো আমাদের অনেক পথ বাকি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা সব সময় গর্বের। আমরা চেষ্টা করব পোল্যান্ডে বিশ্বসেরা হওয়ার। ’ দলটির আরেক সদস্য বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্রী মাহমুদা নাইম বলেন, ‘আমাদের তৈরি রোভারের কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুটোর মাধ্যমেই চলতে পারে। প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র তিন-চার মাস আগে থেকে আমরা কাজ শুরু করি। এমনও দিন গেছে সকাল থেকে রাত অবধি এর পেছনে খাটতে হয়েছে। ’  উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট কাজের জন্য মঙ্গলগ্রহে পাঠানো রোবটকেই মূলত রোভার বলা হয়ে থাকে।

কাগজে-কলমে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টিম অভিযাত্রিকের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৫৬ জন। সময়ের বিচারে খুব বেশি সময় না পেরোলেও এদের সাফল্যের পাল্লা ভারী। ২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে সারা বিশ্বে পঞ্চম হয় দলটি। ওই বছরই ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে এশিয়ায় সবার ওপরে এবং বিশ্বে ১৪তম স্থান লাভ করে, ২০১৯ সালে হয় ১৫তম। ১৬তম স্থান অর্জন করে ২০২০ সালের আন্তর্জাতিক মার্স হ্যাকাথনে। এবার অভিযাত্রিকের তৈরি রোবটের পেছনে সব মিলিয়ে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল। বর্তমানে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও স্পন্সরের খোঁজ করছে দলটি। তাদের তৈরীকৃত নকশার বেশ কিছু সেন্সর বাংলাদেশে না থাকায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরবর্তী সময়ে নানাভাবে বিদেশ থেকে সেন্সরগুলো সংগ্রহ করতে হয়। এটা বেশ সময়সাপেক্ষ বলে জানান দলের সদস্যরা। দলটির দলনেতাসহ বেশির ভাগ সদস্যই ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বোঝাপড়াটা ছিল ভালো। এর প্রতিফলন ঘটেছে ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জের কোয়ালিফাইয়িং রাউন্ডে। অভিযাত্রিকের রোভার স্পেসের আর্ম ও গ্রিপারের নকশা গ্রাবক্যাড (grabCAD) ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত আছে। যে কেউ এবং যাঁরা রোভার স্পেস নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁরা তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য এই ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।



সাতদিনের সেরা