kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

[ মনোভূমি ]

উইক ডগ হেভি সাউন্ডার!

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লোকটা বয়সে আমার আব্বার চেয়ে বড়। তবু তাঁকে আমি ডাকি ‘কাগু’। আদতে আমার কোনো কাকা নেই। নেই বলেই কি আমার বন্ধু সাইমুন যাঁকে ‘বাইসা’ বলে ডাকে, তাঁকে আমি ডাকি ‘কাগু’!

কী জানি কেন!

কেফায়েতের ক্যারম-ঘরে তাঁর সঙ্গে পরিচয়।

বিজ্ঞাপন

সব সময় খেলত, এমন নয়। বরং পাশে দাঁড়িয়ে থেকে অন্যদের খেলা দেখতেই যেন তাঁর বেশি আনন্দ। আর পান খেতে খেতে অন্যদের ডিরেকশন দেওয়ার ওস্তাদ— টেপ দে, ডাইরেক্ট ওয়াল্টার দে... ইত্যাদি।  

হুটহাট চলে আসতেন তাঁর বন্ধুসহ। কখনো ক্যারাম খেলতে, কখনো স্রেফ দেখতে। দুজনেই বাকপণ্ডিত। হঠাৎ এমন একটা কথা বলে বসবেন, তাজ্জব না বনে উপায় নেই। মাঝে মাঝে আহ্লাদি আবদার—মাস্টার দুই কাপ চা আর দুই খিলি জর্দা-পানের অর্ডার দেন; কুইক।

কেন জানি না, আমাকে তিনি ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করতেন। একদিন বললেন, মাস্টার, বিরাট সমস্যা; সমাধান দেন দেখি।

কী সমস্যা?

আপনি তো ইংরেজির ওস্তাদ। লাড়ুয়া কুত্তার গেডগেডি বেশি, এইটার ইংরেজি কী হবে, বলেন তো?

আমি এক্কেবারে অপ্রস্তুত। বললাম, এইটা তো সোজা—এম্পটি ভেসেল সাউন্ডস মাচ।

তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তাঁর বন্ধুও না। পরদিন বিকেলে দুই বন্ধু হাজির কেফায়েতের ক্যারম-ঘরে।

মাস্টার, মুশকিল আসান!

মানে?

লাড়ুয়া মানে দুর্বল, মানে উইক। কুত্তা অইলো ডগ। গেডগেডি বেশি মানে... বেশি চিল্লাচিল্লি করে, অর্থাৎ হেভি সাউন্ড করে। তাইলে কী বুঝলেন?

কী বুঝলাম?

বুঝলাম ‘উইক ডগ, হেভি সাউন্ডার!’

এবার তাঁর সাথি হানিফ মামা মাথা নেড়ে সায় দিলেন। আমরা দিলাম হাততালি। শব্দ করে হেসে উঠল সারা ঘর।

আমি ট্রান্সফার হয়ে ঢাকা চলে আসায় মাঝখানে অনেক দিন দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। গেল রোজার ঈদে রিকশায় যেতে যেতে খাসের হাট রাস্তার মাথায় তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা। অপলক তাকিয়ে থেকে বন্ধুর মতো অভিমানী কণ্ঠে বললেন, মাস্টার, আংগোরে বুলি গেছেননি!

প্রিয় বাহার ‘কাগা’, দূরে থাকা মানেই কি ভুলে থাকা?

যত দূরেই থাকুন, আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন। আপনাকে অনেক ভালোবাসি।

—ওমর ফারুক

সুবর্ণচর, নোয়াখালী



সাতদিনের সেরা