kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

[ মহাপৃথিবী ]

দৃঢ়প্রতিজ্ঞায় অলিম্পিক জয়

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দৃঢ়প্রতিজ্ঞায় অলিম্পিক জয়

সোনার চামচ মুখে নিয়ে সবার জন্ম হয় না। ভাগ্য সবার সহায় হয় না। কিন্তু লক্ষ্যে অবিচল থাকলে অতিক্রম করা যায় সব সীমাবদ্ধতা। তেমন উদাহরণ অলিম্পিকের ইতিহাসেও কম নেই। এর মধ্যে বাছাই করা তিনটির গল্প শুনিয়েছেন নাবীল অনুসূর্য

 

বন্দিশিবির থেকে বিশ্বসেরা

তামিও কোনো। জাতে জাপানি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জের ধরে শৈশবের প্রায় পুরোটাই কাটে ক্যালিফোর্নিয়ার এক বন্দিশিবিরে। বলাই বাহুল্য, সেখানে জীবন ছিল খুবই কঠিন। তবে একটা ভালো দিক ছিল। ওখানকার আবহাওয়া ছিল দারুণ। জন্ম থেকেই অ্যাজমার সমস্যা ছিল কোনোর। সেখানে থেকে কেটে যায় সেটা। তখন সময় কাটাতে শুরু করেন ভারোত্তোলনে। নেশার মতো পেয়ে বসে তাঁকে। ১৯৫০ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন কোনো। সে বছরই বাধে কোরিয়ার যুদ্ধ। মানে উত্তর আর দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ। আসলে ছিল মার্কিন-রুশ স্নায়ুযুদ্ধের ফল। এতে যোগ দিতে প্রস্তুতও হচ্ছিলেন কোনো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর পাঠায়নি কর্তৃপক্ষ। এর আগে জেনে যায় তাঁর ভারোত্তোলনের গুণপনার কথা। এর ফলও মিলেছিল হাতেনাতেই। পরের দুই অলিম্পিকেই জেতেন সোনা। ফসকে যায় শুধু ১৯৬০ অলিম্পিকে। শেষবারে রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল কোনোকে।

 

অসাড় পায়ে ঘোড়সওয়ার

১৯৪৪ সাল। লিস হার্টেলের বয়স তখন ২৩ বছর। গর্ভবতী ছিলেন। এর মধ্যেই ধরা পড়ে পোলিও। সন্তানের কিছু হয়নি। কিন্তু হার্টেলের হাঁটু থেকে নিচের অংশ পুরোপুরি অসাড় হয়ে যায়। এমন অবস্থায় খেলোয়াড়িজীবনে ইস্তফা টানাই স্বাভাবিক। কিন্তু ড্যানিশ এই ঘোড়সওয়ার হাঁটেন উল্টো পথে। ঘোড়াকে শিখিয়ে-পরিয়ে নেন, চালিয়ে যান ইকুয়েস্ট্রিয়ান ড্রেসেজের চর্চা। যেটাতে মূলত পরীক্ষা দিতে হয় কে তাঁর ঘোড়াকে সবচেয়ে ভালো প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছেন। অলিম্পিকে এই ইভেন্ট আগেও ছিল। শুরু থেকেই এটাতে ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। ইকুয়েস্ট্রিয়ান বা ঘোড়ার খেলা অন্যান্য ইভেন্টের মতোই। তবে অন্য একটা সীমাবদ্ধতা ছিল। অংশ নিতে পারতেন শুধু সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। ১৯৫২ অলিম্পিকে প্রথম ইভেন্টটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সবার জন্য। সেবারই নাম লেখান হার্টেল। অসাড় পা নিয়েই তাক লাগিয়ে দেন। জিতে নেন রৌপ্যপদক। স্বর্ণপদক জিতেছিলেন সুইডিশ সেনাবাহিনীর হেনরি সেন্ট কির। পদক নেওয়ার সময় তিনিও দেখান খেলোয়াড়ি মনোভাব। হার্টেলকে সাহায্য করেন পোডিয়ামে উঠে দাঁড়াতে। পরের অলিম্পিকেও তাঁরাই জিতেছিলেন সোনা আর রুপা। একই অনুক্রমে।

 

ভাঙা হাঁটুর খেল

ষাটের দশকে জাপানের পুরুষ জিমন্যাস্ট দল ছিল অপ্রতিরোধ্য। ১৯৬০ থেকে ১৯৭২—টানা চার অলিম্পিকে জিতেছিল সোনা। ১৯৭৬ অলিম্পিকেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল না। ঝামেলা বাধে ফাইনালের আগ দিয়ে। ফ্লোর এক্সারসাইজ করতে গিয়ে বাঁ হাঁটুতে বাজে রকমের চোট পান শুন ফুজিমোতো। কিন্তু বলেননি কাউকে। তিনি সরে গেলে যে শেষ হয়ে যাবে জাপানের টানা পঞ্চম সোনা জয়ের সম্ভাবনা। ছেলেদের জিমন্যাস্টিকস হয় ছয় বিভাগে। ফ্লোর, পমেল হর্স, রিংস, ভল্ট, প্যারালাল বারস ও হরিজন্টাল বার। ভাঙা হাঁটু নিয়েই পমেল হর্সে নামেন ফুজিমোতো। দশের মধ্যে স্কোর তোলেন ৯.৫। তারপর রিংস ইভেন্ট, যেটাতে ফুজিমোতো সবচেয়ে ভালো। এবং তাঁর হাঁটুর ব্যথার জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। দাঁতে দাঁত চেপে চালিয়ে যান খেলা। ইভেন্টটা শেষ করতে হয় প্রায় আট ফুট উঁচু থেকে লাফিয়ে মাটিতে নেমে। সেটাও ঠিকঠাকই করেন ফুজিমোতো। কিন্তু চোখেমুখে স্পষ্ট ফুটে ওঠে ব্যথার অভিব্যক্তি। কাজেই ডাক্তার আসেন। দেখেন। তাঁকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। নইলে আশঙ্কা ছিল আজীবনের জন্য পঙ্গু হওয়ার। তবে নিজের কাজটা ততক্ষণে ঠিকই করে ফেলেছেন ফুজিমোতো। রিংসে স্কোর তুলেছেন ৯.৭। আর জাপানও রুশ দলকে পেছনে ফেলে জিতে নেয় তাদের পঞ্চম স্বর্ণপদক। 

তথ্যসূত্র : মেন্টাল ফ্লস, অলিম্পিকস ডটকম



সাতদিনের সেরা