kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

[ সুপ্রভাত বাংলাদেশ ]

রেজার অতিথিরা

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী রেজা। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর অতিথি হয় ৫০ জন ভিক্ষুক। পেটপুরে খেয়ে খুশিমনে বাড়ি ফেরে তারা। তিনি এই উদ্যোগের পেছনের গল্প শুনিয়েছেন মোহাম্মাদ বাবুল আকতারকে

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেজার অতিথিরা

১৯৭৭ সালে আমার জন্ম, মণিরামপুরের মাছনা খানপুর গ্রামে। বাবা খাইবার আলী ও মা জাহানারা বেগম। আট ভাই-বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। বাবা ছিলেন স্থানীয় একটি হাই স্কুলের শিক্ষক। তিনিই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। টানাটানির সংসার। টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছি। যশোরের এম এম কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক পাস করেছি। এরপর স্থানীয় একটি মাদরাসায় চাকরি পেলাম। চাকরি ঠিকই করতাম; কিন্তু বেতন মিলত না। এভাবে কয়েক বছর চলার পর সেই মাদরাসা ছেড়ে দিলাম। পরে চাকরির সন্ধানে চলে গেলাম ঢাকায়। চাকরি জুটল বেঙ্গল গ্রুপে সেলসম্যান হিসেবে। থাকতাম গাজীপুরে।

লেখালেখির অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই। চাকরির ফাঁকে ফাঁকে ‘শিল্পী’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করতাম। বছর দশেক আগে হজেও গিয়েছিলাম। সেখানে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁদের একজনের প্রেরণা ও সহযোগিতায় কেজেএফ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে যেতাম। সেই সূত্রে একাধিকবার মক্কা-মদিনায় গেছি। করোনার কারণে এখন সব বন্ধ। বছর দুয়েক আগে মণিরামপুর শহরে মেসার্স মক্কা-মদিনা ভ্যারাইটিস স্টোর নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। এরপর দেখলাম, প্রায় প্রতিদিনই দোকানে ভিক্ষুকরা এসে হাত পাতে, বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিন—শনি ও মঙ্গলবার তাদের সংখ্যা বেড়ে যায়। সাহায্যের পাশাপাশি অনেকে খাবারও চায়। প্রথম দিকে কিছুদিন বেশ কয়েকজনকে খাবার কিনে দিলাম। দেখলাম, পাঁচ-দশ টাকার চেয়ে পেটপুরে খেতে পারলে বেশি খুশি হয় ওরা।

এখানে সবচেয়ে বড় হাট বসে শনিবার। ঠিক করলাম, সপ্তাহের এই একটা দিন এসব মানুষকে পেটভরে একবেলা খাওয়াব। আর মঙ্গলবার তাদের শুকনো খাবার দেব। গেল বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করেছি। এখনো চলছে। প্রতি শনিবার সবজি-খিচুড়ি রান্না করি। পরে প্যাকেট করে সেগুলো ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করি। আর মঙ্গলবার তাদের কলা, চিড়া, মুড়ি, খেজুর, কেক, বিস্কুটের মতো শুকনো খাবার দিই। প্রতি সপ্তাহে এই দুই দিন গড়ে ৫০ জন করে মানুষ আসে খাবার নিতে। এই কাজে সপ্তাহে গড়ে হাজার তিনেক টাকা খরচ হয়। খাবারের পাশাপাশি পথচারীদের কথা ভেবে দোকানের সামনে একটি ফ্রিজও রেখেছি। তাতে শুকনো খাবার ও পানীয় রাখা থাকে। ফ্রিজটির বাইরে লিখে দিয়েছি ‘অসহায়রা খাবেন, আবার কেউ ইচ্ছা করলে এতে অসহায়দের জন্য খাবার রেখে যেতে পারেন।’ ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে কিনেছিলাম ফ্রিজটি। আমার এমন কাজ দেখে পরে তারা ২০ হাজার টাকা মওকুফ করে দিয়েছে। এসব কাজে এখন আমাকে অনেকে সহযোগিতা করছেন। খাবার পেয়ে মানুষের মুখে যখন হাসি ফোটে মন ভালো হয়ে যায়। সাধ্যে যত দিন কুলায় কাজটি করে যেতে চাই।



সাতদিনের সেরা