kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

[ মনোভূমি ]

আমি যেন সেই বৃষ্টিভেজা পাতাবাহার

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত বছর প্রেগন্যান্সির কারণে মাস ছয়েক বাড়িতে ছিলাম। তারপর আবার ছয় মাস ঢাকায়। ঢাকায় পড়তে যাওয়ার পর থেকে যতবার বাড়িতে এসেছি ততবারই কখনো পরীক্ষার জন্য, কখনো বাড়িতে রেজাল্ট, চাকরি নিয়ে প্যারা খেয়ে, ট্যুরের আয়োজন করে বন্ধুরা ফোন করলে এবং শেষ দিকে প্রেমিকের টানেও ঢাকায় ফেরার জন্য ছটফট করেছি। প্রেগন্যান্সির জন্য ছয় মাস বাড়িতে থেকে শেষ দিকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কারণ আমি প্রবল আড্ডাবাজ। কিন্তু বাড়িতে ঘরবন্দি থেকে থেকে প্রায় মরে যাচ্ছিলাম। চূড়ান্ত রকম অসুস্থ একটা বাচ্চাকে সারিয়ে তোলার নানা রকম দায়িত্ব, এক ঘণ্টা পর পর ব্রেস্টফিড করানো, ঘুম পাড়ানো, ঘুম থেকে তোলা—এসবের মধ্যে মাসের পর মাস নির্ঘুম রাত যাপন আমাকে প্রায় পাগলই বানিয়ে ফেলেছিল। যা হোক, এই প্রথম বাড়িতে এসে ঢাকায় ফেরার ছটফটানি খুব বেশি টের পাইনি। কারণ হয়তো ঢাকায় জীবন এর চেয়েও বেশি বন্দি বলে। একে তো করোনা, আবার অবুঝ শিশুর সঙ্গে কতটা সময় থাকা যায় তার মেজাজ-মর্জি মেনে! নিজের কাজগুলোর জন্য বুকের ভেতর হাহাকার করে। কেউ যেন রাস্তা ধরে হাঁক দিয়ে যায় দিন ফুরানোর খবর বলে। কিন্তু বাচ্চার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে, অপুর ভালোবাসা নিতে নিতে, দিতে দিতে আমার দিন ফুরিয়ে যায়। সব কিছুর মধ্যেও মন পড়ে থাকে আমার স্বপ্নরাজ্যে। অপু আমাকে হেল্প করে সব কিছুতেই। ও অফিসে গেলে বাকি সময়টুকু একেবারেই বেকার। মনে হয় পৃথিবীতে এর চেয়ে নষ্ট সময় কেউ কাটায় না। অপু আমাকে বলে যায়, ‘বাবু ঘুমালে তুমিও একটু ঘুমিয়ে নিয়ো।’ কিন্তু শৈশবের এক ট্রমার কারণে একা ঘরে কখনোই ঘুমাতে পারি না। অফিস থেকে ফোনে অপু বারবার বলে, ‘নাশতা কোরো।’ ‘আচ্ছা’ বলে চুপচাপ বসে থাকি। বারবার অপু ফোনে বলে, ‘বাবু ঘুমাচ্ছে; এই ফাঁকে তুমি একটা মুভি দেখো।’ আমি খুঁজে পাই না কোনো মুভি কোথাও! অপু বলে, ‘বাবু ঘুমাচ্ছে, তাহলে তুমি একটা বই পড়ো!’ পুরো সেলফ ঘেঁটে একটাও বই খুঁজে পাই না যেটা আমার তখনই পড়তে ইচ্ছা করে। কিন্তু অনেক দিন পর নিজের ভালো লাগা মুহূর্তগুলো খুঁজে পাচ্ছি। বাড়িতে ভোররাতে বৃষ্টি নামে। গায়ে কাঁথা তুলতে তুলতে চিরচেনা ভালো লাগার অনুভবে আরাম বোধ করছি। আমার একা লাগছে না। বুকের ভেতরটা বৃষ্টির শব্দে গুমরে কেঁদে উঠছে না। কতকাল আগে এ রকম বর্ষায় অকারণে আমার মন নেচে উঠত। তার সঙ্গে যেন তাল মেলাতে পারছি আবার। এই কারণহীন পরমানন্দে আমি যেন সেই বৃষ্টিভেজা পাতাবাহার, বৃষ্টির ফোঁটা যাকে ক্ষতবিক্ষত করতে না পেরে; বরং আন্দোলিত করছে প্রেমে।

জান্নাতুল ফেরদৌস সনি, ভোলা



সাতদিনের সেরা