kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সেবা দেন আসমা

আসমা আক্তার গৃহপালিত পশু-পাখির কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদান করেন। পুরো ঝিকরগাছায় তিনিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র। এম আর মাসুদ জেনে এসেছেন আরো অনেকটা

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেবা দেন আসমা

গৃহপালিত পশু-পাখির কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদান করেন আসমা

নির্বাসখোলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম বল্লা। যশোরের ঝিকরগাছায় এ গ্রাম। আসমা এ গাঁয়ের ফিরোজ হোসেনের স্ত্রী। তাঁর পিত্রালয় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়ার দলুইপুর গ্রামে। স্বামী মালয়েশিয়াপ্রবাসী। তবে সেখানেও ফিরোজ খুব সুবিধা করতে পারছেন না। নিজের খাওয়াদাওয়া কোনো রকমে চালাতে পারেন মাত্র। এর মধ্যে আবার করোনা। এখন তো আসমাকেই উল্টো মালয়েশিয়ায় টাকা পাঠাতে হচ্ছে। আসমার একটি কন্যাসন্তানও আছে।

 

বিয়ের যুগ পার

২০০৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় আসমা আক্তারের বিয়ে হয়। তখন স্বামী বেকার ছিলেন। আসমা বাড়ি বসে দরজির কাজ করতে থাকেন। সেই সঙ্গে লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে থাকেন। ২০১৫ সালে আসমা যশোর সরকারি এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর হন। চাকরি পেতে অনেক আবেদন করেছেন; কিন্তু না পেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেননি। গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করতে থাকেন। টিকা দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করেন।

 

আশা দেখছেন

২০১৮ সালে আসমা আক্তার ইউএসএআইডির কমিউনিটি এজেন্ট হন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্র্যাক ও ইউএসএআইডির সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে প্রশিক্ষণ নেন। ওই বছরেরই পরের দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। এরপর এলাকায় ফিরে তিনি সেবা দিতে শুরু করেন। আর এর মাধ্যমেই আসমা দারিদ্র্য ঘোচানোর উপায় খুঁজে পান। আশা করছেন আর হয়তো পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আসমার সংসারে এখনো সচ্ছলতা আসেনি, তবে অনটন নেই। চেষ্টা করছেন একটা মোটরসাইকেল কিনে নিতে। তাহলে আরো বেশি ডাকে সাড়া দিতে পারবেন। বাড়বে রোজগারও।

 

এখন আসমা

মেয়ের লেখাপড়া, সংসারের কাজকর্ম সব একাই সামাল দিচ্ছেন আসমা। সেই সঙ্গে মুঠোফোনে ডাক এলে সাড়া দিতেও দেরি করেন না। গাভি (গরু) ও ছাগি (ছাগল) দুয়েরই কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদান করছেন আসমা। প্রতি মাসে ২০-২৫টি গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন সেবা প্রদান করছেন তিনি। আসমা নিজেও বাড়িতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন করেন।

 

তাঁকে নিয়ে

উপজেলার বায়সা চাঁদপুর দাখিল মাদরাসার মৌলভি শিক্ষক মাওলানা আতিয়ার রহমান বললেন, আসমা আক্তার এখন একটি দৃষ্টান্ত। গবাদি পশু সাধারণত বাড়ির নারীরাই লালন-পালন করেন। তাই সেবাদানকারী যদি পুরুষ হন, তবে ঘরের নারীরা তাঁকে তেমন সহযোগিতা দিতে পারেন না। আসমার ক্ষেত্রে এটি বাড়তি সুবিধা। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তাঁর সমান যাতায়াত। ইউএসএআইডির ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, আসমা সত্যি পথ দেখালেন।