kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

[ একদিন আমরাও গিয়েছিলাম ]

চুনাপাথরের গুহা মৌসমাই

মার্জিয়া লিপি

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুনাপাথরের গুহা মৌসমাই

ছবি : সংগ্রহ

বৃষ্টির দিন। সকাল ৯টা। আরামের ঘুম ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠতেই ইচ্ছা হচ্ছিল না। তবু মৌসমাই বলে কথা! রওনা হয়ে গেলাম। খাসি, জয়ন্তিয়া ও গারো পাহাড় মিলে ভারতের মেঘালয়। এখানে হাজার হাজার গুহা পাবেন। তার মধ্যে চেরাপুঞ্জির মৌসমাই যেন রানির মুকুটের দাবিদার।  চুনাপাথরের এই গুহা ক্রেম ফিলুত বলেও  চেনা। শিলং থেকে মৌসমাই প্রায় ৫৮ কিলোমিটার আর চেরাপুঞ্জি সদর থেকে ছয় কিলোমিটার। নসিংথিয়াং জলপ্রপাতের কাছেই। আধাঘণ্টা মেঘের ভেতর দিয়ে ছুটে তারপর পৌঁছলাম মৌসমাই। তখনো তেমন ভিড় জমে ওঠেনি। প্রবেশপথেই অনেক খাবারের দোকান। মোমো দেখেই জিবে এলো জল। অতএব, ঢুকে পড়লাম এক দোকানে।  লাল মরিচ বাটা দিয়ে ভেজিটেবল আর চিকেন মোমো দুটিই খেয়ে নিলাম। তারপর টিকিট কেটে ঢুকলাম গুহায়। বেশ কয়েকটি সিঁড়ি পেরোতে হলো। এখানে ভ্রমণবেলা ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা। ইনফরমেশন বোর্ডে দেখে এসেছিলাম বিভিন্ন ভঙ্গিতে কয়েকটি বাদুড়। অপ্রশস্ত পথ। বাদুড়ের ডানা ঝাপটানো আর ওড়াউড়ির শব্দ শুনতে পেলাম।  অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহা। দেখতে সঙ্গে টর্চলাইট অথবা হেডলাইট রাখতে হয়।

 

গুহার ভেতরে

গাছপালায় ঢাকা গুহার চারপাশ। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। সূর্য আসেনি গুহায়। সূর্য ও আমার মেয়ে ভোর আর আমি গুহায় চলেছি। গুহাটি খুব বড় নয়, মিনিট পনেরোর মধ্যেই ঘুরে দেখা যায়। তবে অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তলা থেকে ছাদ পর্যন্ত পুরোটাই পাথরের। ছাদ আর দেয়াল চুইয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছে। গুহার ভেতরে পানি কোথাও অল্প, কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত। বেশ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজতে ভিজতে গুহায় পথ চলি।  ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর অদ্ভুত রূপে ধরা দিচ্ছে গুহার ভেতরে। গুহায় কোথাও কোথাও পাশাপাশি দুজনের চলতে অসুবিধা হয়। কোনো কোনো জায়গায় পাথর বেয়ে একটু ওপরে উঠে আবার নামতে হয়। ভেতরে ছাদ থেকে নেমে আসা পাথরের অদ্ভুত ভূতুড়ে আকার আমাদের কাছে একেবারেই আনকোরা। ভোরকে সামনে রেখে হাঁটছিলাম। হঠাৎ কোনো বিপত্তিতে পেছন থেকে যেন ধরতে পারি।

 

আমি ভূগোলের ছাত্র

গুহার অভ্যন্তরের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্ট্যালাগমাইট, স্ট্যালাকটাইট এবং দেওয়াল অসংখ্য স্ফটিক আলোকরশ্মি প্রতিফলিত করে। গুহার ছাদ থেকে সরু স্ট্রয়ের মতো যেগুলো ঝুলছিল, সেগুলোকে স্ট্যালাকটাইট বলে। আর গুহার নিচ থেকে যে স্তম্ভগুলো উঠেছে সেগুলোকে বলে স্ট্যালাগমাইট। মৌসমাই গুহার বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্ট্যালাগমাইট ও স্ট্যালাকটাইটের নানা আকার ও আকৃতি। ভূগোলের ছাত্র ছিলাম বলে এগুলো বুঝতে কষ্ট হয়নি। প্রতিটি বাঁক পার হওয়ার সময় ভাবছিলাম বোধ হয় এখানেই বুঝি গুহা শেষ; কিন্তু শেষ হওয়ার আগেই সামনে মিলে ছিল আরেকটি বন্ধুর পথ। বেশ রোমাঞ্চকর, কিছুটা গা ছমছমেও। এভাবে যেতে যেতে আলো-অন্ধকারে উঁচু-নিচু বন্ধুর পথ একসময় শেষ হয়ে যায়। আমরাও পৌঁছে যাই গুহার শেষ প্রান্তে। প্রান্তের শেষে ওপরে একটি খোলা জায়গা দিয়ে গুহার ভেতরে কিছুটা আলো ঢোকে। দর্শন শেষে বেরিয়ে আসি পরের গন্তব্যের উদ্দেশে। যাচ্ছি একটি পাহাড়ি গ্রামে। তবে সে গল্প আজ নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা