kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

[ আমরা তাঁর কথা বলেছিলাম ]

সজ্জনরা পাশে দাঁড়াচ্ছেন

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সজ্জনরা পাশে দাঁড়াচ্ছেন

নিংপ্রুর হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস

তিনি ক্যান্সারের রোগী। হুইলচেয়ারেই তাঁর বসবাস। কিন্তু পাঠাগার গড়ে নিংপ্রুচাই মারমা এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অন্যদের। ‘নিংপ্রু বাঁচতে শিখেছেন’ শিরোনামে খাগড়াছড়ির এই তরুণকে নিয়ে অবসরে পাতায় একটি ফিচার ছাপা হয়েছিল ১৮ আগস্ট। এরপর অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন

খেয়ে-না খেয়ে স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন নিংপ্রু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ২০১০ সালে। চাকরি করেছেন কক্সবাজার বর্ডার গার্ড স্কুল ও রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সংসারের হাল ধরার কিছু দিনের মধ্যেই ২০১৮ সালের অক্টোবরে শরীরে ধরা পড়ে ক্যান্সার। ভারতে অপারেশন করিয়েছিলেন। কিন্তু সফল হয়নি। একপর্যায়ে এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন! কিন্তু আমেরিকাপ্রবাসী বিজ্ঞানী মং সানু মারমার অনুপ্রেরণায় একসময় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এলাকার ছেলে-মেয়েদের বই পড়ার উৎসাহ জোগাতে ২০১৯ সালের অক্টোবরে গড়ে তোলেন ‘স্বপ্নের পাঠশালা’। এখন আট শতাধিক বই আছে পাঠাগারে।  দৈনিক পত্রিকাও রাখেন। এখানে শিশুরা ছবি আঁকে। বিতর্ক কর্মশালা হয়। প্রতি শুক্রবার প্রজেক্টরে শিক্ষার্থীদের দেশি-বিদেশি অনুপ্রেরণামূলক সিনেমা দেখানো হয়। তবে পাঠাগারটি গড়ে তোলা সহজ ছিল না। কারণ তিনি একজন ক্যান্সার রোগী। তাঁর পা থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ।

 

তাঁকে নিয়ে লেখার পর

‘নিংপ্রু বাঁচতে শিখেছেন’ ফিচারটি অনেককে নাড়া দিয়েছিল, যাঁদের মধ্যে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসও আছেন। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি সরেজমিনে পাঠাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় পাঠাগারের উন্নয়নে নিংপ্রুর হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন। মন্তব্যের খাতায় তিনি লিখেছেন, ‘একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ যে নিজে এভাবে আলোকবর্তিকা হতে পারেন বা অন্যদের স্বপ্ন দেখাতে পারেন, তা সত্যিই দারুণ প্রশংসনীয়।’ এর আগে ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ বিপ্লব দেবনাথ ও আমেরিকাপ্রবাসী প্রকৌশলী ক্যথন রাখাইন পাঠাগারের জন্য ১২টি বেঞ্চ, দুটি বুকশেলফ তৈরি করে দিয়েছেন। এক সেট বাংলাপিডিয়াও পাঠিয়েছেন। নসিব খান নামে ঢাকার এক বাসিন্দা ৪৬টি এবং আখতার ফারুক নামে রংপুরের এক কলেজ শিক্ষক ১০টি বই পাঠিয়েছেন। সিন্দুকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু রেডাক মারমা ১০ হাজার টাকা এবং পাঠাগারের জন্য শিক্ষা উপকরণ কিনে দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিংপ্রুর সহপাঠীরা (অর্থনীতি ৮৫তম ব্যাচ) উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁর চিকিৎসার। মানুষের এমন সাড়ায় আবেগাপ্লুত নিংপ্রু। বললেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। জানি, সারা জীবন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে! শারীরিক কষ্টের মধ্যেও পাঠাগার বাঁচিয়ে রেখেছে আমাকে।’

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য