kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

[ অদম্য মানুষ ]

বাচপান ইয়াদ আজায়ে

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাচপান ইয়াদ আজায়ে

শৈশবকে মনে করিয়ে দেওয়ার অন্য রকম এক প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন ভারতের পাঞ্জাবের হরভজন কৌর। বয়স তাঁর ৯৪ বছর। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আল সানি

হরভজনসের স্লোগান ‘বাচপান ইয়াদ আজায়ে’ মানে শৈশব মনে পড়ে যাবে। সুস্বাদু বরফি আর আচার তৈরি করে এ প্রতিষ্ঠান। গোটা পাঞ্জাবেই বরফি জনপ্রিয়, বিশেষ করে শিশুদের কাছে। বরফির কাঁচামাল সংগ্রহ, বানানো ও বিক্রি করার সব কিছুই এক হাতে সামলান হরভজন। বয়স তাঁর কাছে শুধু একটি সংখ্যাই। গেল তিন-সাড়ে তিন বছরে তিনি বরফি বানিয়েছেন ৫০০ কেজিরও বেশি। প্রতি কেজি বিক্রি করেন ৮৫০ রুপিতে।

 

তিনি থাকেন চণ্ডীগড়

তিনি থাকেন চণ্ডীগড়ে মেয়ে রবিনার কাছে। চার বছর আগে একদিন রবিনা জানতে চেয়েছিল, তাঁর (হরভজনের) জীবনে কোনো চাওয়া বাকি আছে কি না। অল্প সময় ভেবে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘জীবনে কখনো এক পয়সাও উপার্জন করিনি’— এটাই অপূর্ণতা। মেয়ের অন্তরে কথাটা গেঁথে যায়। রবিনা ভাবতে থাকেন। এমন কিছু করতে চাইলেন, যা দিয়ে মায়ের সাধ পূর্ণ হয়। তখন রবিনার মনে আসে, মায়ের রান্নার হাত ভালো। রবিনা যখন ছোট ছিল তখন বাড়িতে মিষ্টিজাতীয় খাবার কেনা হতো না, মা সব বানাতে জানতেন। আবার তিনি ভালো আচারও বানাতে জানেন। এই ভেবে রবিনা একটা ব্যবসা শুরুর পথ খুঁজতে থাকেন। আর মাকেও খাবারের ব্যবসা করার বুদ্ধি দেন। প্রথম দিকে হরভজন একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন; কিন্তু মেয়ে আর নাতনি তাঁকে ছাড়েনি।

 

তখন বয়স নব্বই

হরভজন ব্যবসা শুরু করে দিলেন। বরফি ও আচার বানিয়ে কাছের বাজারে বিক্রি করতে লাগলেন। প্রথম দিনটিই ছিল চমকে যাওয়ার মতো, সব বরফি ও আচার বিক্রি হয়ে যায়। উপার্জন হয় দুই হাজার রুপি। এরপর বাড়ি ফিরে নতুন করে বরফি মিষ্টি ও আচার বানানো শুরু করেন। তাঁর বরফিগুলো চণ্ডীগড়ের মানুষদের ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দিতে থাকে। তাই তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন। সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানটির নাম দেন ‘হরভজনস’। সপ্তাহে ১৫-২০ কেজি মিষ্টি বানানোর অর্ডার পাচ্ছিলেন। সব মিষ্টি তিনি নিজেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন। হরভজনের নাতনির বিয়ে হয়েছে গত বছরের শেষের দিকে। বিয়েতে নাতনির আবদার ছিল, বিয়ের সব মিষ্টি তার নানি একাই বানাবেন। নাতনির আবদার রেখেছেন নানি। পুরো ২০০ কেজি মিষ্টি এক হাতেই বানিয়েছেন তিনি।

 

অনেকেই ভাবছে

হরভজনকে দেখে অনেকেই ভাবছে, আমিও পারব। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রার একটি টুইটার পোস্ট তাঁকে তারকা বানিয়ে দিয়েছে। পোস্টটি রীতিমতো ভাইরাল হয়। মাহিন্দ্রা লিখেছেন, ‘যখন আপনারা স্টার্ট আপ (নতুন প্রতিষ্ঠান) শব্দটি শোনেন, তখন সিলিকন ভ্যালি বা বেঙ্গালুরুতে হাজার হাজার ডলারের ইউনিকর্ন (স্টার্ট আপ, মূলত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক) তৈরির ভাবনা মনে আসে। কিন্তু এখন থেকে স্টার্ট আপ শব্দটার সঙ্গে ৯৪ বছর বয়সী হরভজন কৌরের কথাও মনে করতে পারেন। কারণ এ নারীর কাছে কোনো বয়সই শুরু করার জন্য শেষ বয়স নয়। আমার কাছে তিনিই এ বছরের সেরা উদ্যোক্তা।’ এখন হরভজনের বেশ কয়েকজন সহকর্মীও আছে। মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শোনান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা