kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ছায়া মানুষ

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছায়া মানুষ

নিজের লাগানো গাছের নিচে আজিজল হক। ছবি : লেখক

তিনি ভাবেন, ক্লান্ত পথিক ও কৃষক নেবে বিশ্রাম, পাখি পাবে নিরাপদ আবাস। মানুষ ও পাখপাখালি খাবে ফলমূল, চিরসবুজ থাকবে প্রকৃতি। এ ভাবনা থেকেই প্রায় দুই যুুগেরও বেশি সময় ধরে ঔষধি, ফলদ ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ লাগিয়ে চলেছেন আজিজল হক। শেখ মামুন-উর-রশিদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল

 

ষাটের বেশি বয়স আজিজল হকের। পেশায় পান বিক্রেতা। ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজি গ্রামে। উপজেলা সদর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে। ভাঙা একটি টিনের ঘরেই পরিবার নিয়ে থাকেন। পান বিক্রি করে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার।   দোমড়ানো-মোচড়ানো পাঞ্জাবি ভিন্ন অন্য কিছু তাঁকে পরতে দেখা যায় না। বলা যায় তাঁর অভাবের জীবন। তবু নিজের গাঁটের টাকা খরচ করেই রেললাইনের ধার, রাস্তাঘাট ও পরিত্যক্ত জায়গায় গাছ রোপণ করেন।   

 

ছায়া পেতেন না

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে খিলি পান ফেরি করে বিক্রি করা শুরু করেন আজিজল। পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে একটু শীতল ছায়া খুঁজতেন। কিন্তু কম সময়ই ছায়া পেতেন। তাই তিনি ছায়াদানকারী বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নিলেন। তার পর থেকে বটগাছ লাগানো শুরু করেন। একসময় গাছগুলো পাখিদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। 

 

মন খারাপ হয়

গাছগুলো বড় হওয়ার পর ডালপালা ছড়িয়ে যায় আশপাশের জমিতে। আর পাশের জমির মালিকরা বড় বড় ডালপালা ছেঁটে দেন। মনে অনেক কষ্ট অনুভব করেন আজিজল। কিন্তু তিনি কাউকে মুখ খুলে বলতে পারেন না।  এমন কষ্ট থেকেই সিদ্ধান্ত নেন আর বটগাছ লাগাবেন না। তারপর মনোযোগ দেন ফলদ বৃক্ষের দিকে। বছর দশেক ধরে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাচ্ছেন তিনি।

 

কোথায়, কতগুলো গাছ

উপজেলার ফলগাছা বাজারের দক্ষিণ পাশে চেয়ারম্যান বাড়ির মোড়, কাফি মেম্বারের বাড়ির উত্তর পাশের মোড়, চৌধুরানী রেলওয়ে লাইনের দুই ধার, পূর্ব হাফিজি মাদরাসা, মীরগঞ্জ হাট, মনিরাম কাজি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধলারপাড়ের দুটি মসজিদ, বামনজল ব্রিজ থেকে দুই কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন আজিজল। তাঁর লাগানো গাছের মধ্যে বট, আম, জাম, কাঁঠাল ও নারকেল গাছ রয়েছে। তবে তিনি শুধু নিজেই গাছ লাগান না,  কেউ গাছ লাগাতে চাইলে তাকেও গাছ কিনে দেন। গত ১০ বছরে শুধু ফলদ বৃক্ষের চারাই লাগিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার। আর এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার গাছের চারা রোপণ করেছেন।

মন্তব্য