kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

[ বিশ্ব বিচিত্রা ]

চুলচাল

হেয়ারস্টাইলেরও আছে ইতিহাস। সময় নানা প্রভাব রেখেছে এর ওপর। আবু সালেহ শফিক জানতে চেয়েছিলেন সেসব

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুলচাল

ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি (১৪৯১-১৫৪৭) ফ্রান্সের রাজা ফ্রান্সিসের সঙ্গে বন্ধুতা গড়লেন। একবার ফ্রান্সিস মাথায় আঘাত পেলে হেনরিও চুল কামিয়ে নিয়েছিলেন। পরে আবার দুজনে ঠিক করেছিলেন, আগামী সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত আর চুল-দাড়ি কামাবেন না। হেনরির স্ত্রী চাইতেন ফ্রান্সের বদলে স্পেনের সঙ্গে বন্ধুতা গড়তে। তিনি হেনরির চুল-দাড়ি ছোট করার বায়না ধরলেন। এদিকে দুই রাজার সাক্ষাতের সময় নিকটবর্তী হলো। ফ্রান্সিসের মা দেখলেন, সর্বনাশ হয়ে যাবে। তখন ফর্মুলা দিলেন, ওদের বন্ধুতা তো দাড়িতে নয়, হৃদয়ে।

 

ঘাড় অবধি

এবার সতেরো শতক। লম্বা চুলে বিপদ দেখলেন ইংরেজ প্রভাবশালী লেখক উইলিয়াম প্রিনে (পিউরিটান, চার্চ অব ইংল্যান্ডের সংস্কার চাইত)। প্রিনে বললেন, বড় চুলে অহংকার আসে। তাই এটা মুক্তির পথ রুদ্ধ করে। ফরমান জারি করলেন, চুল কাটো যতটা পারো ছোট করে, অন্তত ঘাড়ের নিচে চুল নামাবে না।

 

পরচুলা পছন্দ

ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস (১৬৩০-৮৫) ১৬৬০ সালে ফ্রান্সে নির্বাসন থেকে ফিরে আসার পর পরচুলার (উইগ) ভক্ত হন। তাঁর প্রজারাও রাজার প্রতি ভক্তি দেখিয়ে পরচুলা পরতে থাকে। অনেকে আবার চুল ধোয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতেও পরচুলার ভক্ত হয়। একপর্যায়ে ইউরোপে পরচুলা আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।

 

চরমপন্থীদের চুল

যারা চরমপন্থায় বিশ্বাসী, সতেরো শতক থেকেই দেখা গেছে তারা চুল ছোট রাখে। সত্তরের দশকের স্কিনহেডদের (ইংল্যান্ডে ষাটের দশকে উদ্ভব) দেখলেই ব্যাপারটি বোঝা যায়। ট্রোজান স্কিনহেড, গে স্কিনহেড, ব্ল্যাক স্কিনহেডরা অনেক রকম চুলচালের নিদর্শন দেখিয়েছে।

 

ছোট চুলেই শান্তি

উইগ তাড়ানোর পেছনে ফরাসি বিপ্লবের ভূমিকা রয়েছে। অভিজাতদের অনেকেরই গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়। যারা বেঁচে গিয়েছিল তারা আর পরচুলার ঝুঁকি নিতে চায়নি। তার ওপর ফ্রান্সে যারা অভিজাতদের চুল সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখত তারা বেকার হয়ে চলে এলো ইংল্যান্ডে। তারা চুল ছোট রাখার পেছনে নানা গল্প চাউর করতে থাকল। তাতে কিছু রোজগারও হলো। আর চুল হতে থাকল ছোট, সোজা ইত্যাদি।

 

ববকাট

বিশের দশকে মেয়েদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয় ববকাট। অনেকে একে নারী স্বাধীনতার সঙ্গে সমার্থক করে দেখতে চান। যাহোক সে সময় (যুদ্ধের দিনে বিশেষ করে) মেয়েদের অনেকে পুরুষের কাজ করত। ববকাটে এসব কাজে সুবিধা হতো। তবে এর শুরুটা আরেকটু পেছনে, ১৯০৯ সালে। পোল্যান্ডের হেয়ারড্রেসার আন্তনি সিয়েরপ্লিকয়স্কি ববকাট চালু করেন। বলা হয়, তিনি জোয়ান অব আর্কের চুল থেকে প্রেরণা পেয়েছেন। পরের দিকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মেরি থারম্যান একে জনপ্রিয় করেন। ইংরেজ সুন্দরী লেডি ডায়ানা কুপারও এতে ভূমিকা রেখেছেন। টাইম সাময়িকী তাঁকে নিয়ে ১৯২৬ সালে প্রচ্ছদ করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা