kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

[ পরের তরে ]

রুমীকে নিয়ে লেখার পর

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রুমীকে নিয়ে লেখার পর

করোনাকালে রুমীকে (অটিস্টিক ও বাকপ্রতিবন্ধী) সামলাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন মা ফাতেমা আক্তার। ‘মেয়েটা বড় কাঁদে’ শিরোনামে রুমীকে নিয়ে এই অবসরে পাতায় একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছিল গেল ১৪ জুলাই। তারপর কিছু মানবিক ঘটনা ঘটল 

 

পূর্বসূত্র

ফাতেমা আক্তার নিজে আবার ক্যান্সারের রোগী। মহাখালী ডিওএইচএসে পিএফডিএ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের (ভিটিসি) ছাত্রী ছিল রুমী। স্বাভাবিক সময়ে দিনের বেশির ভাগটা ভিটিসিতেই কাটত রুমীর। কিন্তু করোনা সে রুটিন এলোমেলো করে দিয়েছিল। সহপাঠীরা অনলাইনে ক্লাস করলেও স্মার্টফোনের অভাবে রুমীর সে সুযোগ ছিল না। ঘরের টিভিটাও ছিল নষ্ট। ফোন কিংবা টিভি কেনার মতো সামর্থ্যও নেই ফাতেমা আক্তারের। কিন্তু প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় হলে অস্থির হয়ে পড়ত রুমী। মায়ের আঁচল ধরে টানাটানি করত। বাইরে না নিলে কান্না জুড়ে দিত।

 

ট্যাব ও টিভি পেলেন

কালের কণ্ঠে লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর কয়েকজন বিশেষ শিশুর (স্পেশাল চাইল্ড) মা রুমীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। রুমীকে নতুন ট্যাব উপহার দিয়েছেন তাঁরা। একজন রুমীর জন্য এলইডি টিভি কিনে সেটা বাসায় সেট করে দিয়েছেন। রুতবা হাসান ‘রুমীর গল্প’ শিরোনামে কবিতাও লিখেছেন। ভিটিসির প্রতিষ্ঠাতা সাজিদা রহমান ড্যানি বলেন—ফিচারটি পড়ে কয়েকজন মা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। প্রথমে নাসরিন আক্তার নামে এক মা বললেন, ‘আপা, আমি ওর (রুমী) জন্য কিছু করতে চাই।’ সাজিদা চাইছিলেন ভালো মানের ক্যামেরাওয়ালা ট্যাব দিতে। পরদিন সালমা জাকিয়া বৃষ্টি নামের আরেকজন ফোন করলেন সাজিদাকে। বললেন, ‘আপা, আমি বুঝি—এ সময় এ রকম বাচ্চা সামলানো কত কঠিন। তার ওপর আর্থিক সমস্যা থাকলে তো কথাই নেই। আভিনকে (ছেলে) সামলাতেই নাকাল অবস্থা আমার। রুমীর জন্য আমিও কিছু করতে চাই।’

সাজিদা রহমান বললেন, ‘২৬ জুলাই রুমীর মাকে ডাকলাম। তাঁর হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ করে সিমও দেওয়া হলো। ঠিক হলো মাসিক ইন্টারনেটের বিলও দেব আমরা।’ ট্যাব পেয়ে তো রুমী মহাখুশি। রুমীর মা ফাতেমা আক্তার বললেন, ‘রুমীর অস্থিরতা এখন অনেকটাই কমে গেছে।  অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করে। বিকেলে টিভি দেখে সময় পার করে। আমাদের দুর্দিনে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ।’

 

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা