kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

[ এখন জীবন যেমন ]

ছুটির ফাঁদে লোকমান

ইতালি থেকে যা নিয়ে এসেছিলেন ফুরিয়ে গেছে আগেই। এরপর জমিতে পাট ও ধান চাষ করেছিলেন। বন্যায় তলিয়ে গেছে। লোকমান এখন ভেবে পাচ্ছেন না কী করবেন। জানাচ্ছেন আব্দুল আজিজ শিশির

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছুটির ফাঁদে লোকমান

ছয়জনের পরিবার লোকমানদের। প্রতিদিন কম করেও ৫০০ টাকা লাগে। তার ওপর মায়ের ওষুধ কিনতে হয়। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার উপসি গ্রামের মানুষ ৩৫ বছর বয়সী লোকমান কাজী। ইতালি থেকে দেশে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন।

 

বিদেশ যাত্রা

রাজমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে লোকমান ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে মিসরে পাড়ি জমান। তারপর জীবিকার টানেই ২০১৪ সালে সীমানা পেরিয়ে চলে যান লিবিয়ায়। সেখানে কিছুকাল কাজ করার পর মানবপাচারকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার পণ করেন। একপর্যায়ে ইতালির উপকূলে ভিড়েও যায় তাঁদের জলযান। এ জন্য পাচারকারীদের দিতে হয়েছে আট লাখ টাকা। ইতালি পৌঁছে আশ্রয় মেলে শরণার্থী শিবিরে। সেখানে কিছুদিন কাটিয়ে কাজ শুরু করেন একটি পোশাক তৈরির কারখানায়। তারপর দুই বছর কাজের (ওয়ার্ক পারমিট) অনুমতি পান। তা শেষ হওয়ার পর গেল জানুয়ারির শেষাশেষি ছুটি কাটাতে আসেন দেশে। ধারদেনা শোধ করতেই উপার্জনের বেশির ভাগ চলে গেছে। শুধু খরচের টাকা নিয়ে মাকে দেখতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে ফিরে যাওয়ার সময়ই দেশে কভিড হানা দেয়। লকডাউনে বন্ধ হয় বিমান চলাচল।

 

আটকা পড়েন

আর ইতালিতে ফিরে যেতে পারেননি লোকমান। কয়েক দিন ধারদেনা করেও চলেছেন। এখন আর সে সুযোগ নেই। কৃষিকাজে মন দিয়েছিলেন। ধান-পাটের পাশাপাশি কিছু সবজির চাষও করেছিলেন। কিন্তু বন্যা সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। স্ত্রী, তিন ছেলে আর মাকে নিয়ে লোকমানের সংসার। বড় ছেলেটা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে আর ছোট ছেলেটার বয়স মোটে ৯।

 

আবার যদি

ইতালি ফিরে যাওয়ার আশা ছাড়েননি লোকমান। কিন্তু পুরনো টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন টিকিটের টাকা জোগাড় করার ভাবনাও পেয়ে বসেছে এখন। লোকমান কাজীর স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩০) বলেন, ইতালিতে থেকে যা উপার্জন করেছেন তা দিয়ে কোনো মতে পেছনের ধারদেনা শোধ করতে পেরেছি। এখন যে কী করব কোনো দিক খুঁজে পাচ্ছি না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা