kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

[ সৃজনশীল বাংলাদেশ ]

অ্যাপে মিলবে প্লাজমার সন্ধান

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ভালো ফল মিলেছে। প্লাজমা ডোনারদের তাই সহজে খুঁজে পেতে নাঈম মাহফুজ শাহীন তৈরি করেছেন একটি মোবাইল অ্যাপ। তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। সজীব আহমেদ বলছেন বাকিটা

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যাপে মিলবে প্লাজমার  সন্ধান

মানুষের রক্তের জলীয় অংশকে বলা হয় প্লাজমা বা রক্তরস। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, বিশেষ করে তাঁদের প্লাজমায় একধরনের অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তাই তাঁদের প্লাজমা যদি করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্য কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ করা হয়, তখন তাঁর শরীরেও সেই অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকেই বলা হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি।

যেহেতু আমাদের দেশে করোনা রোগী বাড়ছে, তাই প্লাজমা থেরাপির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু রোগীদের সঙ্গে প্লাজমা ডোনারদের যোগাযোগ করার নেই কোনো কার্যকর মাধ্যম। যদিও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনার খোঁজার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তা হচ্ছে সময়সাপেক্ষ। এই সংকট নিরসনে নাঈম মাহফুজ শাহীন তৈরি করেছেন প্লাজমা ডোনার খুঁজে পাওয়ার কার্যকর একটি মোবাইল অ্যাপ, নাম প্লাজমা লাইফ (PlasmaLife)। এর মাধ্যমে সহজেই গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে খুঁজে পাওয়া যাবে নিকটস্থ প্লাজমা বা ব্লাড ডোনার (প্লাজমালাইফে নিবন্ধিত করোনাজয়ী)। এরপর সবচেয়ে কাছে থাকা ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে অনুরোধ জানানো যাবে প্লাজমা দেওয়ার জন্য। আবার প্লাজমা বা রক্তের জন্য রিকুয়েস্ট পোস্ট করলেও সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস চলে যাবে নিকটস্থ সব ডোনারের কাছে। যে কেউ এখানে ডোনার অথবা মেম্বার হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন। ডোনার হিসেবে যুক্ত হলে যে কেউ প্লাজমা বা রক্তের জন্য ফোন দিতে পারবে আপনাকে। মেম্বার হিসেবে যুক্ত হলে গোপন থাকবে আপনার ফোন নম্বর। অ্যাপসে প্রবেশ করে সার্চ বোতামে চাপ দিয়ে ডোনারদের তালিকা দেখা যাবে। সেই সঙ্গে আপনার ফিডে দেখতে পাবেন দেশের কোথায় কোথায় প্লাজমা প্রয়োজন। তা ছাড়া ট্র্যাক রাখা যাবে আপনার প্লাজমাদানের তারিখ, খুঁজে নিতে পারেন নিকটস্থ স্বেচ্ছাসেবী, দেখতে পারবেন নিকটস্থ থ্যালাসেমিয়া রোগী। অ্যাপটিতে আরো রয়েছে প্রাইভেট ডোনার ডিরেক্টরি। এতে যেকোনো সংগঠন চাইলে তাদের ডোনার লিস্ট অ্যাড করে রাখতে পারবে, যা শুধু ওই সংগঠনের সদস্যরাই দেখতে পাবেন। এরই মধ্যে অ্যাপটিতে নিবন্ধন করেছেন প্রায় দেড় হাজার ব্যবহারকারী এবং ৫৫৫ জন প্লাজমা ও ব্লাড ডোনার।

প্লেস্টোর থেকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে নামানো যাবে PlasmaLife অ্যাপটি। প্লাজমা অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহীন বলেন, করোনা সংক্রমণের এই মুহূর্তে প্লাজমা দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন দরকার হয় তখন খুব অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর জন্য প্লাজমা ম্যানেজ করা মুশকিল হয়ে যায়। তাই প্লাজমা সন্ধানে এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যাতে মানুষের ছুটে বেড়াতে না হয়। এই প্রয়াস থেকেই এমন একটি অ্যাপ ডেভেলপ করার চিন্তা আমার মাথায় আসে।

আমি এ অ্যাপটির মাধ্যমে প্লাজমাদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে মূলত সংযোগ করে দিচ্ছি। অ্যাপটি নিয়ে আমি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। এর ব্যবহারকারী যত বাড়বে তত বেশি প্লাজমাদাতা ও গ্রহীতা বাড়বে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নাঈম তৈরি করেছিলেন রক্তের সন্ধান দেওয়ার একটি মোবাইল অ্যাপ। এর নাম ব্লাডলাইন ২৪/৭।  অ্যাপটিতে সাড়ে ১৫ হাজার জন নিবন্ধন করেছেন। যাদের মধ্যে ব্লাড ডোনার  সাড়ে ৮ হাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা