kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

[ এই তো জীবন ]

বিউটিশিয়ান হলেন দিনমজুর

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিউটিশিয়ান হলেন দিনমজুর

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা। পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৪টি গ্রাম। ওই সব গাঁয়ে গারো জনগোষ্ঠীর বাস। সেখানকার মেয়েদের বড় একটা অংশ বিউটিশিয়ানের কাজ করেন শহরে। করোনাকালে তাঁরা ফিরে এসেছেন বাড়িতে।  মো. আমিনুল হক দেখতে গিয়েছিলেন

চুনিয়া গ্রামটি ছবির মতো। গারো রাজা পরেশচন্দ্র মৃর বাড়িও এই গ্রামে। একধারে শালবন আর পশ্চিমে ক্ষীরা নদী। ওই গাঁয়ের রবিতা মৃ অভাবের কারণে বেশিদূর পড়তে পারেনি। ২০০৭ সালে তিনি বিউটি পার্লারে কাজ শুরু করেন। এখন বগুড়ার নওদাপাড়ার এক পার্লারে কাজ করেন। বেতন ১৫ হাজার টাকা। তাঁর স্বামী ঢাকার এক কারখানায় কাজ করেন। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে মাস শেষে থাকে না বেশি কিছু। একখণ্ড জমি ছিল, তা-ও বন্ধক দিতে হয়েছে। বাড়ি ফিরেছেন ১৮ মার্চ। কয়েক দিন হাতের টাকা দিয়ে কোনোভাবে চলে শেষে দিনমজুরের কাজ নিয়েছেন। প্রতিদিন আবার কাজও পান না। পার্লার কবে খুলবে তা-ও জানেন না। তাঁরই গ্রামের দিতি মৃ। বয়স ২৫ বছর। ঢাকার একটি পার্লারে কাজ করতেন। এসএসসি পাস করেছিলেন তিনি। মার্চের ২১ তারিখে বাড়ি ফেরেন। মা, বোন, ভাই, নিজের সন্তান, স্বামীসহ ছয়জন তাঁর সংসারে। কয়েক দিন সবাই মিলেই কাজে গেছেন। এখন কাজ নেই, তাই বাড়িতে বসে আছেন।

 

ঘুরে ঘুরে দেখি

চুনিয়ার মুম্মি মৃ, সুইটি রোমা, তন্নী মৃ, রুবিনা রেমা, বিউটি মৃ কলার বাগানে কাজ করছিলেন। ভুটিয়া গ্রামের লিমা ম্রং, অর্পণা সাংমা, ইতি চিসিম, রূপালী চিসিম আনারসবাগান নিড়াচ্ছিলেন। কাঁকড়াগুনি গ্রামে প্রিয়া নকরেক, অর্চনা নকরেক ও শবনম চিরান কলার বাগানেই কাজ করছিলেন। বাগানের মালিক জুলহাস উদ্দিন বললেন, ‘এলাকার গারো মেয়েরা পার্লার থেকে বাড়ি ফিরে আনারস ও কলার বাগানে দিনমজুরের কাজ করছেন। তাঁরা মজুরি পান ৩০০ টাকা।’ জানলাম, মধুপুর গড় এলাকার গারো নারীরা বগুড়া, জামালপুর, পাবনা, রাজশাহী, সিলেট, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বেশি কাজ করেন। তাঁদের বাড়ি শোলাকুড়ি, ফুলবাগচারা, অরণখোলা, কুড়াগাছা, বেরীবাইদ, আউশনারা বা মহিষমারা ইউনিয়নে। সাইনামারি গ্রামের নিপা সাংমার সঙ্গে কথা বললাম। তিনি জামালপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করেন। তাঁর আরো চার বোন একই কাজ করেন, তবে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। ছেলে-মেয়ে, স্বামীসহ বোনেরা সবাই এখন গ্রামে। তাঁদের সব মিলিয়ে ১৮ জনের পরিবার। তিন মাস তাঁদের কাজ ও বেতন বন্ধ। এ ছাড়া আমলীতলী গ্রামের লিপি মাজি, লিণ্ডা মাজিরা বন থেকে আলু তুলে এনে খাচ্ছেন মাঝেমধ্যে। তাঁদের এখন চিন্তা, যদি করোনা পরিস্থিতি আরো দীর্ঘস্থায়ী হয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা