kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

[ কী চমৎকার দেখা গেল! ]

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখক। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন মেহেদী আল মাহমুদ

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

সামাজিক দূরত্ব

ওষুধের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনের লোকটার গা দিয়ে বোঁটকা গন্ধ বেরোচ্ছে। সহ্য করতে না পেরে লোকটাকে ডেকে বললাম সে কথা। লোকটা পেছনে তাকিয়ে আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘আপনি একটা গর্দভ।’ মাথায় রক্ত চড়ে গেল। প্রচণ্ড রেগে লোকটাকে কিছু বলতে গেলে সে আমাকে হাত তুলে থামিয়ে বলল, ‘আপনি যদি আমার গায়ের গন্ধ পেয়ে থাকেন, আপনার মাস্কটা ঠিক নেই। একটা ভালো মাস্ক কিনুন। আর আপনাকে যে গর্দভ বললাম, সেটা শুনতে পেলে আপনি সামাজিক দূরত্ব পালন করছেন না। যান একটু পিছিয়ে দাঁড়ান।’

আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরোল না। চুপচাপ পিছিয়ে গেলাম।

সজীব আহমেদ

 

আগে বোঝেনি?

বনে নির্বাচন। শিয়াল পণ্ডিত নির্বাচন কমিশনার। ভোটাভুটি শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর শিয়াল ফলাফল ঘোষণা করতে মঞ্চে উঠেছে।

সেই সময় কোত্থেকে এক গণ্ডার ছুটে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘পণ্ডিতমশাই, আমাকে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ভোট দিতে দেয়নি।’

শিয়াল বলল, ‘এ কথা আজ বলছ কেন?’

গণ্ডার বলল, ‘আমাকে যে বের করে দেওয়া হয়েছিল, এটা এইমাত্র বুঝলাম।’

ইতি বিশ্বাস

 

একচিমটি

♦ আজ সকালে রাশিফল দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। লেখা আছে, উচ্চ স্থানে কর্মযোগ। কে জানত, বউ আমাকে দিয়ে সিলিং ফ্যান পরিষ্কার করাবে।

রবিউল ইসলাম

 

♦ বন্ধ দোকানের শাটারের ওপর লেখা আছে, অনলাইন অর্ডারের জন্য নিম্নলিখিত নম্বরে ফোন করুন।

ফোন করতেই উত্তর এলো, শাটার উঁচু করে ভেতরে চলে আসুন।

জাহিদুল ইসলাম

 

♦ অতিথিরা দারুণ। ওরা এলেও আনন্দ, গেলেও আনন্দ।

নবগোপাল চক্রবর্তী

 

♦ মাস্ক পরে রাস্তায় বেরোলে নিজেকে কেমন যেন বাংলা ছবির ঙঢ়বত্ধঃরড়হ করে বের হওয়া ডাক্তার মনে হয়।

জসিম

♦ স্কুল খোলা নিয়ে একটু ভাবনা-চিন্তা চলছে। অবিশ্বস্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন পরিকল্পনায় ছাত্ররা সোম, বুধ আর শুক্রবার স্কুলে আসবে।

আর শিক্ষকরা স্কুলে আসবেন মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার। এর ফলে ছাত্রদের থেকে শিক্ষকদের বা শিক্ষকদের থেকে ছাত্রদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে না।

বাবা মঈন

 

এ কেমন নিমন্ত্রণ?

আজ একটি নিমন্ত্রণপত্র পেলাম। নিমন্ত্রণপত্রের নিয়মাবলি এ রকম :

১. দয়া করে সপরিবারে আসিবেন না। শুধুমাত্র আপনার নিমন্ত্রণ...

২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখবেন এবং আপনার মাস্ক একেবারে খুলবেন না।

৩. অপ্রয়োজনীয় জিনিসে হাত লাগাবেন না।

৪. বর-কনেকে দূর থেকে আশীর্বাদ করবেন। ওদের কাছে এসে ফটো তোলার বা তোলাবার চেষ্টা করবেন না।

৫. সর্বত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন।

৬. আশীর্বাদ লৌকিকতা স্বরূপ প্রদেয় টাকা বা উপহার ১ নম্বর কাউন্টারে জমা দিয়ে রসিদ নিয়ে নেবেন।

অনলাইন পেমেন্ট করলে স্ক্রিনশট সঙ্গে রাখবেন।

কাউন্টার নম্বর ২-এ রসিদ বা পেমেন্টের স্ক্রিনশট দেখিয়ে খাবারের প্যাকেট সংগ্রহ করে নেবেন।

এরপর নিজের বাড়িতে গিয়ে প্রীতিভোজের আনন্দ উপভোগ করুন।

বিঃ দ্রঃ : ফুল, মালা একেবারেই আনবেন না, পরিবর্তে কাউন্টার নম্বর ৩-এ টাকা অনলাইনে জমা করে দেবেন।

আপনাকে বাধ্য হয়েই নিমন্ত্রণ করছি। কেননা আমি আপনার বাড়িতে গিয়ে একটা খাম দিয়ে একবার খেয়ে এসেছিলাম।

জিসান মাহফুজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা