kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

মনোভূমি

নাকফুল

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জামেলা বেগম বারবার নাকফুলটির দিকে তাকায়। হাতে নিয়ে দেখে, মনের ভেতরে কষ্ট অনুভব হয়।

স্বামী বিয়ের সময় এই নাকফুলটি দিয়েছে। বাসর রাতে নিজের হাতে জামেলার নাকে পরিয়ে দিয়েছে কাশেম মিয়া। সেই স্মৃতি মনে পড়তেই আনমনে হেসে ওঠে জামেলা। তবে পাওনাদার আলম মিয়ার কথা মনে পড়তেই সে হাসি মিলিয়ে যায়। কাশেম মিয়া দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে দুই বছর আগে। জামেলা মনে মনে বলে, লোকটা মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের সব সুখও যেন নিয়ে গেছে।

জামেলার সুখের সংসার ছিল। স্বপ্ন দেখত দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবে। তবে কাশেম মিয়া হঠাত্ করে মারা যাওয়ায় সুখের সংসারে ভাটা পড়ে। দুই ছেলে জড়িয়ে পড়ে নানা অপকর্মে। আইপিএল, আর বিপিএলকে কেন্দ্র করে বাজি ধরে জুয়ার আসরে। দেখতে দেখতে একসময় কাশেম মিয়ার সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেয় দুই ভাই। সম্পত্তি বিক্রির পর পাওনাদারের ভয়ে দুই ভাই একসময় ঢাকায় চলে আসে। জামেলা বেগমের খোঁজও নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।

দুই,

তিন মাস আগে আজকের তারিখে আলম মিয়ার পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা বলেছে জামেলা।

ছোট্ট ছেলে হাসু, জামেলাকে সাক্ষী রেখে আলম মিয়ার কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে ২০ হাজার টাকা সুদের ওপর ধার নিয়েছিল। দুই মাস পর পরিশোধ করার কথা। তবে করেনি। শেষে আলম মিয়া গ্রামের মানুষ ডেকে সালিস বসিয়েছে। মাতব্বররা বলেছে, আলম মিয়ার ২০ হাজার টাকা, তিন মাস পরে পরিশোধ করবে জামেলা।

তিনটি ছাগল, আর কয়েকটি হাঁস ছিল জামেলার বেঁচে থাকার সম্বল। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সব কিছু বিক্রি করতে বাধ্য হয়। তার পরও আরো দুই হাজার টাকার প্রয়োজন। জামেলা ভালো করে জানে কেউ একটা টাকাও ধার দেবে না। উপায় না পেয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া নাকফুল বিক্রি করে দেয়। জামেলার বুকের বাঁ-পাশে চিনচিন করে ব্যথা করে! কিছু ভাবতে পারে না। চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে!

রুহুল আমিন রাকিব

দুর্গাপুর, কুড়িগ্রাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা