kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রঙ্গভরা বঙ্গদেশ

তোমার বই বেরিয়েছে?

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সদ্যঃপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতো বালাই আর নাই। তা-ও যদি হয় বইমেলায়। তার ওপর যদি হয়, কোনো না কোনোভাবে দূরসম্পর্কের আত্মীয়-স্বজন টাইপ। সেখানে মানুষ আসেই ‘যার সাথে দেখা হবে তার সাথেই আড্ডা দেব’ মুডে।

আরে তুমি এখানে? তোমার বই বেরিয়েছে?

জি, হ্যাঁ। ভুলেই তো গিয়েছিলাম, তুমি তো লেখালেখি করো শুনেছি।

জি। অল্প।

কবিতা না? তুমি তো কবি।

জি না। কবিতা না। উপন্যাস।

অহ। ওই একই। কবিরাই লেখক। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল—সবাই তো কবি লেখক।

জি জি।

আমি বইটই খুব একটা পড়ি না। কী লাভ অযথা সময় নষ্ট করে?

না, তা ঠিক। বই পড়ে আসলে তো লাভ নেই।

হুম, হুম। ওই যে একটা কথা আছে না, বই পড়ে কী যেন দেউলিয়া হয়ে যায়।

জি, আছে।

কী যেন?

বই পড়ে অনেকে দেউলিয়া হয়ে যায়।

হা, হা। ঠিক; কিন্তু লাইনটা আরেকটু কেমন করে যেন বলে।

জি।

তা তোমার বই বিক্রি করে কিছু থাকে নাকি?

জি থাকে, অল্প।

বাহ, বেশ।

আপনি বইমেলায় নিয়মিত আসেন নাকি?

আসা হয় দরকারে। আজকে এক বন্ধুর আসার কথা শাহবাগ। এখনো ঘণ্টাখানেক লাগবে। ভাবলাম, কোথায় দাঁড়ানো যায়, একটু বইমেলায় ঘুরে আসি।

ঠিক আছে। বইমেলার চেয়ে ভালো জায়গা নেই ঘোরার জন্য।

আরে আমিও তো ছোটবেলায় কবিতা লিখেছি। ডায়েরি ভর্তি কবিতা ছিল। আম্মা ডায়েরিটা বিক্রি না করলে একটা বই করতে পারতাম।

না, খালাম্মা ঠিক করেছে।

ঠিক করেছে, মানে ভুল করেছে।

আচ্ছা তুমি বই বিক্রি করো, আমি যাই। ফোন দেব। নাম্বারটা দাও।

আমি আমাদের এলাকার অল্প একটু মেয়েলিটাইপ ছেলে সবুজের নাম্বার দিয়ে দিলাম।

     ইশতিয়াক আহমেদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা