kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

মনোভূমি

মন কি আর বদলানো যায়?

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টেবিলে সাজিয়ে রাখা ইলিশ মাছের পেটি, গরুর মাংস ভুনা, খাসির কলিজা, চিংড়ি মাছ, বাদাম ভর্তা, কালিজিরা ভর্তা। মা পাঠিয়েছে। অর্ণব ভাই নিয়ে এসেছে। বড় চাচার একমাত্র ছেলে। আমার থেকে প্রায় বছর পনেরো বড় হবে। মিশুক মানুষ। কবি কবি একটা ভাব আছে। যা হোক, খেতে বসলাম। কেউ মুখোমুখি বসলে গল্প জমত; কিন্তু শীত পড়ছে। এমন কুয়াশা যে বাইরে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। বাড়ির বুয়ারাও ঘুমিয়ে পড়েছে; কিন্তু দেয়ালে টাঙানো ঘড়িটার যেন ঘুম নেই। আমার গায়ে ধূসররঙা চাদর। কপালে একটি টিপ। কানের পাশ দিয়ে কেমন যেন ঝিঁঝি পোকা ডাকার শব্দ। মা বলত শরীর দুর্বল হলে নাকি এমন হয়। প্লেটভর্তি করে সব নিলাম। শুধু খাবার নাড়াচাড়া করছি; কিন্তু খেতে পারছি না। কোথাও যেন একটা গণ্ডগোল। মাথা তুলে দৃষ্টি স্থির করতে ওয়ালে লাগানো সেই ওয়ালমেট। কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। হঠাত্ হাওয়ায় কাপড়টি সরে গেছে। একটা রাতের দৃশ্য আজ থেকে সাত বছর আগের। সালটাও স্পষ্ট। নামটাও। যাকে সাত বছর ধরে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। হাত ধুয়ে চলে গেলাম ছাদে। শহরটা অদ্ভুত। এখানে ভুলে যাওয়া মানুষগুলো মাঝে মাঝে মনে এসে কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে যায়। হঠাত্ পেছন থেকে কে যেন বলল, ‘জীবনের প্রয়োজনে বদল জরুরি।’ ফিরে দেখি অর্ণব ভাই।

—সবাই কি বদলে যেতে পারে?

—কেন? কত কী বদল হচ্ছে।

—মন কি আর বদলানো যায়?

—প্রয়োজনে সব মানিয়ে নিতে হয়। প্রতারকদের এড়িয়ে যেতে হয়।

-নাহ, অর্ণব ভাই, ও প্রতারক নয়।

—যে ছেলে সাত বছরের প্রেমকে ফ্যামিলির অজুহাতে ফেলে যেতে পারে সে তো প্রতারক ছাড়া আর কিছু নয়।

শোনো নিতি, জীবন বদলে যায় জীবনের প্রয়োজনে, কে কবে বেসেছিল ভালো না-ই বা রাখলাম মনে। চলো ঘুমাতে চলো।

—নাহ, তুমি যাও। আমি জেগে থাকি। জীবনে কিছু রাত ঘুমিয়ে কাটানোর, কিছু রাত গল্প-গুজবের, কিছু রাত বেদনার, আর কিছু রাত জেগে থাকার।

জেলী আক্তার

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা