kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মনোভূমি

ক্যাম্পাসে প্রথম দিন

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১৭ নভেম্বর ২০১৫। ঘড়িতে সকাল সাড়ে ৮টার মতো বাজে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে চারদিকে। আমি আর বাবা শাবিপ্রবির কিলো রোড ধরে হাঁটছি। আমার পরনে পুরু একটা জ্যাকেট থাকার পরও বেশ ঠাণ্ডা লাগছে। ক্যাম্পাসে এটিই আমার প্রথম আসা। ছেলেবেলার পুরোটাই সিলেটে কাটানো সত্ত্বেও আগে কখনো শাবিপ্রবিতে আসিনি। কলেজের শিক্ষক, বন্ধুদের কাছে শাবিপ্রবির সৌন্দর্যের অনেক প্রশংসা শুনেছি। কখনো নিজ চোখে দেখার সুযোগ হয়নি। আমি হাঁটছি আর মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি। সোজা তাকিয়ে হাঁটলে যদি কোনো সৌন্দর্য বাদ পড়ে যায়?

হাঁটতে হাঁটতে এ বিল্ডিংয়ের সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই মেরিট পজিশন ১ থেকে ৫০ পর্যন্তদের ভেতরে যেতে বলা হলো। বাবাকে বাইরে রেখে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার জন্য  ভেতরে ঢুকলাম। রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার সময় সিনিয়ররা জিজ্ঞেস করলেন কোন ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে চাই। বিবিএ বলতেই একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। পরে জানলাম, এঁরা আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র। খুশি খুশি মনে সাবজেক্ট চয়েসের জন্য রুমে ঢুকব এমন সময় মনে হলো, ফেসবুকে আমি যে ছেলেটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম সে ছেলেটিকে তো দেখছি না। তার মেরিট পজিশন ৩৪। তড়িঘড়ি করে পকেট থেকে মোবাইল বের করে কামালকে ফোন করলাম। বলা বাহুল্য, ওইদিন আমি যদি কামালকে ফোন না দিতাম, শেষ পর্যন্ত হয়তো সে আর ভর্তিই হতে পারত না। শীতের সকাল, বেচারা আরাম করে ঘুমাচ্ছিল।

ক্যাম্পাসে আসার পর চার বছর হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে প্রথম দিনটির কথা মনে পড়ে। আমি মুচকি মুচকি হাসি। আহা! কী মধুর একটা দিন ছিল। সাধারণ একটা জিনিসও সেদিন কত অসাধারণ হয়ে আমার চোখে ধরা পড়েছিল!

ক্যাম্পাসের প্রতিটি অলিগলি আমার চেনা হয়ে গেছে। টং, ক্যাফেটেরিয়া, শহীদ মিনার, ইউসি—একেকটি জায়গা অসংখ্যবার দেখা হয়ে গেছে। তার পরও কেন জানি এখনো শাবিপ্রবির সৌন্দর্যে আমি প্রথম দিনের মতোই মুগ্ধ হয়ে আছি। 

মুহিত আহমেদ জামিল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা