kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মনোভূমি

মেয়েটি মিষ্টি কথার ছলে বোকা বানাল

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০১৫ সালের কথা। ঢাকায় একটা বায়িং হাউসে সিনিয়র মার্চেনডাইজার হিসেবে চাকরি করি। তখন বিভিন্ন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির কাজ পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুর নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে একদিন গুলিস্তান থেকে বন্ধন পরিবহনের একটি বাসে উঠি। আমার পাশের সিটে বোরকা পরিহিত এক তরুণী। এমনভাবে নেকাব পরা, দুটি কালো হরিণচোখ ছাড়া মুখের আর কিছুই দেখার উপায় নেই। মোবাইল ফোনে খুব পরিপাটিভাবে কথা বলছিল। তার কথাগুলো ছিল এমন, ‘প্রাইভেট কার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাসে করে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। উফ্ফ! কী অসহ্য রকম গরম, বাসে এসি নেই। কিভাবে যে মানুষ এসব বাসে চড়ে যাতায়াত করে, আল্লাহ কত কষ্ট।’ তার কথাবার্তা শুনে বেশ লজ্জাবোধ করছি। আমাকে নিয়মিত এই অসহ্য গরম সহ্য করে বাসে চড়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আজ আমার পাশে বসেছে এক লাট সাহেবের বেটি, এটাও একটা অস্বস্তির কারণ।

কিছুদূর যাওয়ার পর মেয়েটি বলল, ভাইয়া কি নারায়ণগঞ্জের, নাকি কোনো কাজে ওখানে যাচ্ছেন? বললাম, আমি ঢাকায় থাকি, অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছি। তারপর জানাল, তার বাসা নারায়ণগঞ্জ। সে ঢাকায় একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আবারও প্রশ্ন করল, ভাইয়া আপনি কিসে জব করেন আর নারায়ণগঞ্জে কোথায় যাবেন? বললাম, আমি পেশায় একজন মার্চেনডাইজার। নারায়ণগঞ্জে দুটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে যাচ্ছি। মেয়েটি তখন বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলল, ও আচ্ছা, আপনি মার্চেনডাইজার। নারায়ণগঞ্জে আমাদের একটা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি আছে। অমুক অ্যাপারেলস হচ্ছে আমার বাবার। আপনাকে প্রথমে দেখেই আমার ধারণা হয়েছিল, আপনি একজন মার্চেনডাইজার হবেন।

এভাবে লাট সাহেবের বেটির সঙ্গে কথাবার্তা বেশ জমে উঠেছিল। বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গল্প হলো। একসময় আমার প্রতি তার বেশ দরদ উথলে উঠেছে। আমাকে বলছে, ইশ্ ভাইয়া, আপনাকে কত কষ্ট করতে হয়। আপনি অফিস থেকে একটা গাড়ি পেলে যাতায়াত করতে কত সুবিধা হতো। কাঁচুমাচু মুখে বললাম, এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন। দু-একটা প্রমোশন পেলেই গাড়ি পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। মেয়েটি বলল, আপনার জন্য দোয়া রইল। আপনি যেন খুব দ্রুত প্রমোশন পেয়ে যান। সত্যি কথা বলতে মেয়েটির কথাবার্তায় আমি বেশ সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলাম।

অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরে পৌঁছলাম। মনে হচ্ছিল, নারায়ণগঞ্জের রাস্তা আরো দীর্ঘ হলে মন্দ ছিল না। আমরা দুজনই কালীবাজারের সামনে নামলাম। মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে চলে যাব, এমন সময় মেয়েটি খুব বিনয়ের সঙ্গে বলল, ভাইয়া আপনার মোবাইল ফোনটা কি একটু দেওয়া যাবে, বাসায় একটা জরুরি কল দেওয়া দরকার; কিন্তু আমার মোবাইলের চার্জ শেষ। আমি তখন পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে দাঁত কেলিয়ে বললাম, কোনো সমস্যা নেই, আপনি কথা বলুন। মেয়েটি ধন্যবাদ দিয়ে আমার মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে নাম্বার ডায়াল করতে করতেই কালীবাজার ফেন্সি মার্কেটের একটা গলির সামনে দাঁড়ালো। তখনো আমার নজরের ভেতরেই ছিল। সে কথা বলতে বলতে গলির আরো একটু ভেতরে ঢুকে গেল। তারপর একেবারেই উধাও। আশপাশে তন্নতন্ন করে মেয়েটিকে পেলাম না। মিষ্টি মিষ্টি কথার ছলে আমাকে বোকা বানিয়ে ২৬ হাজার টাকা দামি মোবাইলটি নিয়ে গেল বোরকাওয়ালী। এর পর থেকে বাসে বা ট্রেনে অপরিচিত কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলা দূরের কথা, রীতিমতো এড়িয়ে চলি।

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা