kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মনোভূমি

বাবারা কেন এমন হয়?

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবা হঠাৎ করেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ল। ঢাকা আছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই। বাড়ির খারাপ খবরগুলো কেন যেন সে জন্য মা বলতে চাইত না। ছোট বোনের কাছে খবরটা পেলাম। এদিকে গত সেমিস্টারের রেজাল্টটাও ভালো হলো না। চারদিক থেকে অসহায়ত্ব ঘিরে ধরা শুরু করল। একটা টিউশনি কিংবা পার্টটাইম জবের জন্য অনেক চেষ্টা করলাম। বড় ভাই-বোন সবাইকেই মেসেঞ্জারে প্রতিদিন জানাতাম, ‘ভাই কোথাও কি সুযোগ আছে?’ ভাইয়েরা বলত, ‘আচ্ছা দেখছি।’

কেন যেন এই দেখা কখনো কারোর শেষ হতো না। দিন, মাস চলে যেত। আমাকে অপেক্ষায় থাকতে হতো নিজে চলার মতো কিছু করার সুযোগের। শেষমেশ যখন কিছুতেই কিছু করতে পারতাম না, বাবাকে মোবাইলে কল দিতাম, ‘বাবা কিছু টাকা দিতে পারবে?’ বাবা বলত, ‘আচ্ছা দেখছি’, তবে এই দেখাটা চরম ভরসার। জানতাম, বাবা কোনো না কোনোভাবে টাকা পাঠাবেই। দিনের পর দিন কিংবা মাসের পর মাস আমাকে অপেক্ষা করা লাগবে না।

আমার অসহায়ত্ব বাবা ছাড়া কাউকে যেন ছুঁতে পারত না। মাঝেমধ্যে অচেনা নাম্ব্বার থেকে বাবাকে কল দিয়ে চুপ করে থাকতাম। নিজের নাম্বার থেকে কল দিলে মনের ভেতর বড্ড অপরাধপ্রবণতা কাজ করত। এত বড় হয়ে গেছি অথচ বাবার অসুস্থতার ভেতরেও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারছি না। তবু বাবারা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধেই রেখে দেয়। সব বাবা কেন এমন হয়?

আল সানি

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা