kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মনোভূমি

ভোজন স্যার

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এই বয়সে বেশি করে খেয়ে নেরে সানি, আমার বয়সে এলে কিছুই খেতে পারবি না’ বলেই রবি স্যার গপাগপ দুই প্লেট মাংস সাবাড় করে দিতেন স্কুলের পিকনিকে। স্যার যেমন ভোজনরসিক ছিলেন, তেমনি সবাইকে খাওয়াতেও অনেক পছন্দ করতেন। স্কুলের এমন কোনো ছাত্র-ছাত্রী ছিল না, যাকে অন্তত একদিন ডেকে স্যার খাওয়াননি। তাই আমরা আদর করে উনাকে ভোজন স্যার বলেই ডাকতাম।

পারিবারিক আত্মীয়তার সুবাদে স্যার কোরবানির ঈদে একবার এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। ‘তোরা গুরু আর শিষ্য মিলে সব মাংস শেষ করবি’ বলেই মা মাংস আর ভাতের পাতিল আমাদের সামনে দিয়ে অন্য কাজে চলে গেলেন। স্যার খাচ্ছেন আর আমি দেখছি। এই ৫৫ বছরের বেশি বয়সেও মানুষ এত খাবার খেতে পারে স্যারকে না দেখলে বুঝতামই না। ‘স্যার একটা প্রশ্ন করি?’ খুব ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম। স্যার বললেন, ‘বুঝছি তুই কী প্রশ্ন করবি, কিভাবে আমি এত খেতে পারি সেটাই তো?’ অবাক হয়ে বললাম—জি স্যার।

স্যার শোন বলে শুরু করলেন ‘আজ থেকে প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, তখন বাড়ি থেকে খাবারের টাকা দিতে পারত না। যা দিত তাতে এক বেলার খাবার হতো। মেসে থাকতাম, তাই খরচ একটু বেশিই হতো। আমি করতাম কী—সকাল আর দুপুরের খাবার বন্ধ রেখে রাতের খাবার (মিল) দিতাম শুধু। রাতে অনেক বেশি করে খেয়ে নিতাম, যাতে সারা দিন আর ক্ষুধা না লাগে। এভাবেই বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছিলাম। চাকরিবাকরি পাওয়ার পরে এখন টাকার অভাব আর নেই; কিন্তু অভ্যাসটা আর দূর করতে পারিনি। তাই এখন সব বেলায়ই এত বেশি করে খাবার অভ্যাস হয়ে গেছে। তবে অভ্যাসটা এবার বদলাতে হবে, শরীরে অনেক রোগ বাসা বেধেছে।’ স্যারের কথাগুলো ঠিক বুকের মাঝে এসে বিঁধল। মানুষের জীবন কত বিচিত্র।

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা