kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মনোভূমি

যেভাবে ব্যাঙের মাংস খেলাম

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবে ক্লাস ফাইভের পরীক্ষা শেষ করেছি। ডিসেম্বর মাস। স্কুল বন্ধ। শীত সবে জমতে শুরু করেছে। আশপাশে যত্তসব ডোবা-পুকুর আছে তার সব কয়টিতে পানি শুকিয়ে উঠতে শুরু করেছে। পুকুরগুলোতে মাছ খাওয়ার লোভে বেড়েছে কানি বক আর কোলা ব্যাঙের আনাগোনা। ঠিক ডিসেম্বরের কোনো একদিন আমাদের পাড়ায় এক কাকুর বাড়িতে তাঁর কিছু চাকমা আর মারমা বন্ধু বেড়াতে এলেন। ওনার বন্ধুরা দিব্যি আমাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। তাঁরা আমাদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেন শীতের রাতে। মাতামুহুরী নদীতে স্নান করতেন। আমরাও তাঁদের পেয়ে যারপরনাই খুশি। একদিন খোলা বিলে সবাই ডাংগুলি খেলছি। খেলতে খেলতে ডাংগুলির একটা গুলতি এসে পড়ল বিলের পাশের এক পুকুরে। পুকুরের পানি প্রায় শুকিয়ে এসেছে। ফলে ব্যাঙের আনাগোনা ওই পুকুরে বেশি ছিল। ডাংগুলিটি আনতে গিয়ে কাকুর এক মারমা বন্ধু কোলা ব্যাঙ দেখতে পেয়ে আবদার করলেন ব্যাঙের মাংস খাবেন। যে-ই না কথাটি তাঁর মুখ থেকে বের হলো, অমনি আমাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল ব্যাঙ ধরার দৌড়ঝাঁপ। অতিথি স্বয়ং নারায়ণ বলে কথা। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সাত-আটটির মতো ইয়া বড় বড় ব্যাঙ আমাদের কবজায় এসেছে। কাকুর বন্ধুরা আমাদের বলে দিলেন কী কী লাগবে। জোগাড় করে দিলাম। আমাদের যেহেতু ব্যাঙের মাংস খাওয়ার প্রচলন নেই, তাই বাড়িতে নয়—রান্না হবে বিলে। কাকুর বাসা থেকে আনা হলো ডেকচি আর চামচ। আবার অন্য কারো বাসা থেকে মসলাপাতি আর লাকড়ি। কাকুর বন্ধুরা ব্যাঙগুলো কেটেকুটে পরিষ্কার করলেন। রান্নার দায়িত্বও তাঁরাই নিলেন। একসময় ব্যাঙের মাংস রান্না হয়ে গেল। আমরা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে পুরো পাড়ায় রটে যায় আমরা ব্যাঙের মাংস খাচ্ছি। মুহূর্তেই পাড়াসুদ্ধ মানুষ ব্যাঙের মাংস খাওয়া দেখতে চলে আসে আমাদের ডেরায়। দেখা গেল খাদকের চেয়ে উত্সুক জনতার ভিড় বেশি। আমরাও তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে খেতে লাগলাম ব্যাঙের মাংস। কেউ কেউ আমাদের ব্যাঙের মাংস খাওয়া দেখে ওয়াক থু করতে লাগল। প্রথম ব্যাঙের মাংস খাচ্ছি বলে কথা, নিজেদের মধ্যে একটা ফিলিংস কাজ করছিল। খাওয়া শেষে যখন কাকু ডেকচি আর চামচ বাড়িতে রাখতে গেলেন ওনার দাদু রেগে ওসব নিয়ে ছুড়ে ফেললেন ময়লার ভাগাড়ে। আমিও বুঝলাম আজ রক্ষা নেই। মা-বাবা অনেক আগে থেকেই জেনে গেছেন তাঁদের পুত্রের গর্হিত কাজের কথা! জানতাম সেজো মামা চাকরির সুবাদে চীনে গিয়ে ব্যাঙ-শামুক প্রতিনিয়ত খান বলে মা তেমন কিছু একটা করবেন না। কিন্তু বাবা? বাড়িতে ঢুকতেই মা ভালো করে দাঁত ব্রাশ করে নিতে বললেন। বাবা এসে কষে দিলেন কয়েকটা থাপ্পড়। আর বলতে লাগলেন ‘আমার বাপ-দাদার জনমে যা দেখিনি, তুই ওসব কাণ্ড দেখিয়ে বেড়াচ্ছিস।’ আরো মার খাওয়ার ভয়ে ওসব করব না বলে নাক মাটিতে ঘষে প্রতিজ্ঞা করলাম।

হিমু চন্দ্র শীল

শিক্ষার্থী, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা