kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মনোভূমি

ছেলেটি এখন কোথায় যাবে?

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে মাহফুজ সবার ছোট। ভাইয়েরা বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মা-বাবাকে দেখভাল করার সময়টুকু নেই। বোনদেরও বিয়ে হয়েছে। বোনেরা মা-বাবার কষ্ট উপলব্ধি করেন। বড্ড ইচ্ছা হয় তাঁদের পাশে থাকতে। কিন্তু স্বামীর সংসার ছেড়ে যখন-তখন আসতে পারেন না। ছোট ভাইয়ের কাঁধে পড়েছে সংসারের দায়ভার। সে মা-বাবাকে নিয়ে হাসিখুশি থাকতে চায়। মাহফুজ ছোটবেলা থেকেই হাতের বিভিন্ন কাজ জানে, বিশেষ করে টুপি সেলাই। পাশাপাশি টিউশনি করে। এ দুটিই তার আয়ের উত্স। তবে মা-বাবা তাকে অন্যের কাজ করতে আপত্তি জানান। মাহফুজ কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। যখন খুশি মা-বাবাকে এটা-সেটা উপহার দেয়। তাঁরা ছেলেকে বুকে জড়ান। গালে-মুখে চুমু খান। প্রাণভরে দোয়া করেন।

সে কলেজে পড়ছে। ছেলেটির আদর-যত্নে মা-বাবা ভীষণ খুশি। তাঁদের অসুখের ব্যথা ভুলে থাকেন। এভাবেই চলছিল। জীবনের সত্যটাকে কখনো অস্বীকার করা যায় না। যেখানে সুখ, সেখানে আবার দুঃখ। দিন দিন অসুখ মা-বাবার শরীর জাপটে ধরছে। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন তাঁরা। বাবার অবস্থা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। আগের মতো তাঁর শরীরে শক্তি নেই। কাজকর্ম করতে পারেন না। লাঠিতে ভর দিয়ে এক পা, দু পা করে চলতে হয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার গ্রামের ডাক্তারকে দেখানো হয়েছে। ওষুধপত্র এখন আর তেমন কাজ করে না। বাবা একদিন ছেলেকে ডেকে বললেন, ‘শেষবারের মতো আমি শহরের বড় ডাক্তারের কাছে চিকিত্সা করাতে চাই। মন বলছে, হয়তো সুস্থ হব। না হলে এভাবেই বাকি দিন কাটাব।’

দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। মাহফুজ মা-বাবাকে নিয়ে শহরে ডাক্তারের কাছে এলো। অনেক প্রতীক্ষার পর সন্ধ্যায় মায়ের রিপোর্ট পেলেও বাবার রিপোর্ট পেল না। মায়ের রিপোর্ট ভালো। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। ওষুধপাতি আর কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। রাতেই সে মা-বাবাকে নিয়ে গ্রামে ফিরে গেল।

তিন দিন পর সে আবার শহরে এলো। বাবার রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাল। ডাক্তার বললেন, ‘আপনার বাবার শারীরিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাঁকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।’ এরপর সে চোখের পানি মুছতে মুছতে গ্রামে ফেরে। ডাক্তার স্পষ্টভাবে না বললেও তার বুঝতে বাকি রইল না বাবার বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়েছে। বাবা রিপোর্ট জানতে চাইলেন। ছেলেটি হাসিমুখে বলল, ‘তোমার কিচ্ছু হয়নি। ডাক্তার বলেছেন ওষুধ খেলেই সেরে যাবে।’

কিন্তু বাবার চিকিত্সা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এত টাকার ব্যবস্থা করা খুবই দুষ্কর। কিভাবে এত টাকা জোগাড় করবে মাহফুজ? ছেলেটি এখন কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে?

শফিক শাহরিয়ার

কনইল, নওগাঁ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা