kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মনোভূমি

চোরের উপর বাটপাড়ি

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তখন থার্টিফার্স্ব নাইট পার্টি নিয়ে আমাদের আড়ম্বর কোনো আয়োজন হতো না। কিন্তু উদ্যাপনের উন্মাদনায় কোনো কমতি ছিল না। রাত ১২টা বাজতেই শুরু হতো পটকা ফোটানো। পুরো এলাকায় রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিতাম। তখন আমরা ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ব ইয়ারের ছাত্র। মহল্লার সমবয়সী বন্ধুরা মিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নির্ধারিত স্থানে এসে মিলিত হই। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজন শুরু করে দিই। রাত ১২টা ১ মিনিট বাজতেই পটকা ফোটানো শুরু হলো। সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি আসার আগেই আমরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেলাম। এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠলাম। সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নাচানাচি শুরু হলো। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে একসময় প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগে। তখন বন্ধুর বাসায় যা ছিল, সব কিছুই চেটেপুটে সাবাড় করে নিই। তারপর আরেক দফা নাচ-গান শুরু হলো। এতে পেটের খাবার হজম হতে সময় লাগেনি। তখনই হঠাত্ মাথায় আসে এক দুষ্ট বুদ্ধি। আরেক দফা খাবারের ব্যবস্থা করতে মুরগি চুরির সিদ্ধান্ত নিলাম।

যেই ভাবনা, সেই কাজ। আমাদের মধ্যে যে দুজন সবচেয়ে ভীতু, তাদের ভাত রান্নার দায়িত্ব দিয়ে বাকিরা নিশিকুটুম্বের মতো চুপিসারে অভিযানে বের হই। দূরে কোথাও গিয়ে সুবিধা করতে পারব না ভেবে প্রথমে মহল্লার একজনের মুরগির খোঁয়াড়ে হামলা করি। অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তালা ভেঙে চুরি করতে না পারলেও মুরগিদের ঠিকই ঘুম ভাঙিয়ে দিই। তখন তারা সমস্বরে ‘কক-খক-কক-খক’ শব্দে ডেকে ওঠে। আমরাও সেখান থেকে ভোঁ-দৌড়ে পালিয়ে বাঁচি। একসময় মনে পড়ল, আমাদের যে ভীতু বন্ধু তখন ভাত রান্নায় ব্যস্ত, সে বেশ কিছু কবুতর পালে। শীতের রাতে পাইপ বেয়ে বহু কষ্টে ওদের দোতলা বাসার বারান্দায় উঠে কবুতরের খোপ থেকে এক হালি কবুতর চুরি করলাম।

আগের ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দুই দুঃসাহসিক চোর বন্ধু এক হাতে কবুতরের গলা চেপে ধরে এবং অন্য হাতে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসে। দুজনের হাতে ছিল দুটি করে কবুতর। ওরা বীরদর্পে নিচে নেমে আসার পর নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে আমরা আবিষ্কার করলাম একটা কবুতরও বেঁচে নেই! ভয় ও চাপা উত্তেজনা, সেই সঙ্গে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসার সময় হয়তো হাতের মুঠোয় কবুতরগুলো শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়।

যা হোক, অত্যন্ত ব্যথিত মনে একটা নোংরা ডোবায় কবুতরগুলো ফেলে দিলাম। কী আর বলব কষ্টের কথা, আমাদের অবাক করে দিয়ে ওরা তখন মুহূর্তের মধ্যে ডানা মেলে উড়ে যায়। আসলে কবুতরগুলো কয়েক মিনিট শ্বাসরোধ থাকায় সাময়িকভাবে চেতনা হারিয়ে ফেলে, যখন ডোবায় বরফ শীতল পানির স্পর্শ পায়, তখনই হয়তো চেতনা ফিরে আসে। ওদের এমন বিস্ময়কর কাণ্ড দেখে আমাদের এক চোর বন্ধু তখন বলে ওঠে, একেই বলে ‘চোরের উপর বাটপাড়ি’।

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা