kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মনোভূমি

বেকারের বউ আনতে যৌবন ফুরায়

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজুদা হঠাত্ খুব আক্ষেপ নিয়ে বলে উঠল—বুঝলি সানি, ‘গরিবের নুন আনতে পান্তা ফুরায় আর বেকারের বউ আনতে যৌবন ফুরায়।’

রাজুদা আমাদের সঙ্গে আছে আজ প্রায় তিন বছর। নাখালপাড়ায় সাতজন মিলে একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকি। রাজুদা অনেক সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গেই থাকেন। কারণ তিন বছর ধরে জব খুঁজেও উনি পাচ্ছেন না। বিভিন্ন রকম জ্ঞানগর্ভ কথা ভাইয়ের মুখে শুনে শুনে আমরা বেশ অভ্যস্ত। একদিন হঠাত্  মেসের বুয়া লাপাত্তা। রাজুদা বললেন, আজ আমি রান্না করব। ডাল সিদ্ধ করে ডিম আর কুমড়া দিয়ে এক ধরনের খাদ্য তৈরি করে আমাদের সামনে এনে বললেন, দেখ তো কেমন হয়েছে? আমরা কেউ না খেতে পারলেও উনি বেশ তৃপ্তি নিয়েই সেদিন খেয়েছিলেন। রাজুদা কী একটা কাজে ক্যাম্পাসে এসেছেন একদিন। কাজ শেষে দুজন বাসায় যাওয়ার পথে পা বাড়ালাম। নাখালপাড়ার ৯ নম্বর গলিতে ঢুকতেই দু-তিনজন ছেলে একজনের কাছ থেকে শিস দেওয়া শিখছে। রাজুদা সামনে এগিয়ে এসে আমাকে বলেন, এখনকার ছেলেপেলেরা বাঙালি কালচার পুরো ভুলে গেছে। শিস দিতেও পারে না। আমার শিসের কী জোর দেখ বলেই জোরে একবার শিস দিয়ে দেখিয়ে দিলেন আমাকে। সঙ্গে সঙ্গে ওপর থেকে ময়লার একটা পলিথিন ঠিক রাজুদার মাথায় এসে পড়ল। আমি ওপরে তাকিয়ে দেখি, এক ভদ্রমহিলা বারান্দা থেকে দ্রুত বাসার ভেতর ঢুকে যাচ্ছেন।

রাজুদাকে অনেক কষ্টে বাসায় আনলাম। পরে বুঝলাম, প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার গাড়ি এসে এভাবেই শিস দেয়। রাজুদা এভাবে শিস দেওয়ার কারণে উনি ভেবেছেন ময়লার গাড়ি। এ ঘটনা ঘটার পর রাজুদাকে অবশ্য আর কোনো দিন শিস বাজাতে দেখিনি।

আল সানি

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা